৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ক্যাডাররা এখন ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে সাধারণ ভোটারদের মাঝে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, বিগত সরকারের সময় দাপুটে অবস্থানে থাকা অনেক নেতা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা এখন ‘স্বতন্ত্র’ বা ‘নির্দলীয়’ লেবাসে জনসমক্ষে আসার চেষ্টা করছেন। গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে তারা অনেকেই ধর্মীয় বা সামাজিক সংগঠনের আড়ালে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মূলত নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এবং এলাকায় নিজেদের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই ছদ্মবেশ ধারণের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা বিগত সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তারা এখন ভোল পাল্টে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। কোনো কোনো এলাকায় গোপনে বৈঠক এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চিহ্নিত এসব ব্যক্তিদের এই গোপন তৎপরতা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা যদি কোনোভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তবে তা জননিরাপত্তার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অধিকতর সতর্ক থাকার এবং ছদ্মবেশে থাকা এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে এবং সংঘাত এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই যেন কোনো অপরাধী বা জনরোষের মুখে থাকা ব্যক্তিরা ছদ্মবেশে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 


















