সুনামগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। দলের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খানকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করার দাবিতে জেলা কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁর সমর্থকরা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা তোফায়েল খানকে বাদ দিয়ে জোটের পক্ষ থেকে নেজামে ইসলামের মাওলানা মোজাম্মেল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
বিক্ষোভকারীরা জানান, মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে হাওরাঞ্চলের প্রতিটি জনপদে গিয়ে জনমত গঠন করেছেন এবং ভোটারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। অথচ যাকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে, এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তৃণমূলের দাবি, জনপ্রিয় এই প্রার্থীকে সরিয়ে অপরিচিত কাউকে চাপিয়ে দেওয়া হলে তা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান জোটের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে বিগত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠতা ছিল। এমন ‘বিতর্কিত’ কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সাধারণ ভোটাররা তা প্রত্যাখ্যান করবে। প্রয়োজনে এই আসনটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে তাঁরা বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে পুনরায় বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় তোফায়েল আহমদ খান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বলেন, “ভোটারদের এই আবেগ ও ভালোবাসার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আমার নির্বাচনি এলাকায় যাকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁর কোনো গণসংযোগ নেই। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন সভায় তাঁর অংশগ্রহণের ভিডিও প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অবহিত করেছি।”
রিপোর্টারের নাম 

























