বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত সহিংসতাকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নজিরবিহীন বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে মামলার সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, রামপুরা ছিল আন্দোলনের অন্যতম ‘হটস্পট’, যেখানে বাসাবাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় এমন নৃশংসতা বিরল এবং এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
রামপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক দুই কর্মকর্তা—লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম মুন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তবে মামলার অন্য দুই আসামি, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটরের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন বিশ্বজিৎ রাজবংশী। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, রামপুরায় আন্দোলন চলাকালে বিজিবির গুলিতে তার বাবা গঙ্গাচরণ রাজবংশী প্রাণ হারান। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিবাদী পক্ষকে জেরার জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রিপোর্টারের নাম 















