ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের আহ্বান উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এবং নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুসংহত করতে প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, বীর প্রতীক। তিনি বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমেই দেশে স্থায়ীভাবে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় পশ্চিমপাড়ায় আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোট উপলক্ষে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলা তথ্য অফিস এই উঠান বৈঠকের আয়োজন করে।

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বর্তমান সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নয়, বরং একটি অস্থায়ী জনমতনির্ভর প্রশাসন। আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তর করা। আগামী নির্বাচনে আপনারা আপনাদের পছন্দমতো দলকে ভোট দেবেন, সেখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার আর জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাতে পারবে না। বিনা বিচারে হত্যা বা নির্যাতনের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতেই রাষ্ট্রকাঠামোতে এই পরিবর্তন আনা জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের তুলনা টেনে উপদেষ্টা বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা লড়াই করেছিলাম বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০২৪ সালের লড়াই ছিল নিজের দেশের ভেতর জেঁকে বসা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। তরুণরা খালি হাতে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, তাকে অর্থবহ করতে হবে। এই অর্জনকে নিরঙ্কুশ করতেই গণভোটের আয়োজন।”

প্রস্তাবিত সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে ফারুক-ই-আজম জানান, গণভোটে জনমত প্রতিফলিত হলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি (সর্বোচ্চ ১০ বছর) প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধানের পদে আসীন হতে পারবেন না। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে এবং বিচারিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ ও উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো সাংবিধানিক পদে সরকার একক সিদ্ধান্তে কাউকে নিয়োগ দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্যের প্রয়োজন হবে। এমনকি রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষ ক্ষমতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার এই সংস্কারগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন করবে না। তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি এই প্রস্তাবগুলোতে সায় দেয়, তবে ভবিষ্যতে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রের চাবিকাঠি জনগণের হাতে নেওয়ার এই দুর্লভ সুযোগ যেন কেউ হেলায় না হারান, সেই আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা উপস্থিত সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের আহ্বান উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এবং নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুসংহত করতে প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, বীর প্রতীক। তিনি বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমেই দেশে স্থায়ীভাবে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হবে।

মঙ্গলবার বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় পশ্চিমপাড়ায় আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোট উপলক্ষে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলা তথ্য অফিস এই উঠান বৈঠকের আয়োজন করে।

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বর্তমান সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নয়, বরং একটি অস্থায়ী জনমতনির্ভর প্রশাসন। আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তর করা। আগামী নির্বাচনে আপনারা আপনাদের পছন্দমতো দলকে ভোট দেবেন, সেখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা আমাদের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার আর জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাতে পারবে না। বিনা বিচারে হত্যা বা নির্যাতনের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতেই রাষ্ট্রকাঠামোতে এই পরিবর্তন আনা জরুরি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের তুলনা টেনে উপদেষ্টা বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা লড়াই করেছিলাম বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০২৪ সালের লড়াই ছিল নিজের দেশের ভেতর জেঁকে বসা দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। তরুণরা খালি হাতে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে, তাকে অর্থবহ করতে হবে। এই অর্জনকে নিরঙ্কুশ করতেই গণভোটের আয়োজন।”

প্রস্তাবিত সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে ফারুক-ই-আজম জানান, গণভোটে জনমত প্রতিফলিত হলে কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি (সর্বোচ্চ ১০ বছর) প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধানের পদে আসীন হতে পারবেন না। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে এবং বিচারিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ ও উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপন করা হবে।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো সাংবিধানিক পদে সরকার একক সিদ্ধান্তে কাউকে নিয়োগ দিতে পারবে না। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্যের প্রয়োজন হবে। এমনকি রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষ ক্ষমতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার এই সংস্কারগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন করবে না। তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি এই প্রস্তাবগুলোতে সায় দেয়, তবে ভবিষ্যতে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রের চাবিকাঠি জনগণের হাতে নেওয়ার এই দুর্লভ সুযোগ যেন কেউ হেলায় না হারান, সেই আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা উপস্থিত সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।