রাজধানী ঢাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা ও ভাড়াটিয়াদের ভোগান্তি নিরসনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো বাড়িওয়ালা দুই বছরের আগে ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারবেন না। একইসঙ্গে বাড়িভাড়া নির্ধারণ, বৃদ্ধি এবং ভাড়াটিয়া-বাড়িওয়ালার অধিকার রক্ষায় একগুচ্ছ নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গুলশান-২ এলাকায় অবস্থিত নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারি মাস এলেই বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন, যা একটি অপসংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এই প্রবণতা বন্ধে এখন থেকে ভাড়া বৃদ্ধির সময়কাল বছরের নির্দিষ্ট অর্থবছরের জুন-জুলাই মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত মানসম্মত ভাড়া অন্তত দুই বছরের জন্য অপরিবর্তিত রাখতে হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, বর্ধিত ভাড়ার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার মধ্যে সুসম্পর্ক এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বেশ কিছু নতুন নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে বাড়িভাড়ার যাবতীয় শর্তাবলি একটি লিখিত চুক্তিনামায় উল্লেখ থাকতে হবে। অগ্রিম বা জামানত হিসেবে সর্বোচ্চ এক থেকে তিন মাসের ভাড়া নেওয়া যাবে। এছাড়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করে ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই লিখিত রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।
নির্দেশিকায় বাড়িওয়ালাদের দায়িত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে, বাড়িটিকে বসবাসের উপযোগী রাখা, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করা বাড়িওয়ালার আবশ্যিক কর্তব্য। নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়াটিয়াকে ভবনের মূল গেট ও ছাদের চাবি প্রদান করতে হবে। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া যদি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করেন, তবে বাড়িওয়ালা তাকে লিখিত সতর্কবার্তা দিয়ে চুক্তি বাতিল বা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
শহরকে সবুজায়নের আওতায় আনতে বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা উন্মুক্ত স্থানে বাগান করার সুযোগ রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাড়িওয়ালা যদি ভবনে কোনো পরিবর্তন বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ পদক্ষেপ নেন, তবে তা আগেভাগেই ভাড়াটিয়াকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, বাড়িভাড়া সংক্রান্ত যেকোনো বিবাদ বা সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের নিয়ে সমিতি গঠন করা হবে। এই সমিতিগুলো প্রাথমিক সালিশ ও বিবাদ মীমাংসার দায়িত্ব পালন করবে। এর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যালয়গুলো থেকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান করা হবে। পূর্ণাঙ্গ এই নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার আবাসন খাতে একটি টেকসই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
রিপোর্টারের নাম 















