মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং কুড়িগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পনির উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে। রাঙ্গা যখন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বিপুল অংকের অর্থ লেনদেন করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে এই অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পাশাপাশি মশিউর রহমান রাঙ্গার অবৈধ সম্পদের বিষয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছে কমিশন। তার অর্জিত সম্পদের প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী একটি সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই নোটিশের আওতায় তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদের হিসাব দাখিল করতে হবে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগে দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুদকের এই মামলা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য কমিশন কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 























