শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে ছাত্র সংসদ সচল করার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ‘হাইকোর্ট না শাকসু, শাকসু শাকসু’, ‘শাকসু চাই দিতে হবে’ এবং ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদি হাসানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ভয় পেয়ে আদালতের মাধ্যমে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে। ইতিপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রাকসু) অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অপতৎপরতা দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে নাটকীয়ভাবে এটি স্থগিত করা হয়েছে। টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
রাবি শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ভিত্তি ছিল ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখন একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন ও তাদের অভিভাবক সংগঠন একের পর এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আদালতের মাধ্যমে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। এটি নব্য ফ্যাসিবাদেরই বহিঃপ্রকাশ।
সাবেক ছাত্রনেতা ও রাকসুর সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, শাকসু নির্বাচন স্থগিতের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, একটি পক্ষ আবারও ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করতে চায়। সারা দেশের ছাত্রসমাজ এখন সচেতন। কোনো নির্দিষ্ট নেতার আগমনের দোহাই দিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর আটকে রাখা যাবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জকসু) উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো ফ্যাসিস্ট নেতার অবস্থান মেনে নেবে না।
বক্তারা অনতিবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে জাতীয় নির্বাচনের আগেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বিভাগ ও অনুষদ শাখার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 















