দেশের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ কারাবন্দি ৫৬ জন ব্যবসায়ীর নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধন থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নের নামে গৃহীত হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ২০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি মোবাইল ব্যবসায়ী এবং এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়ে কারাবন্দি হয়েছেন, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। অবিলম্বে আটক ৫৬ জন ব্যবসায়ীর মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তাঁরা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ পিয়াস বলেন, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান আন্দোলন এবং দোকান বন্ধ কর্মসূচির কারণে মোবাইল খাতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধস নেমেছে। টানা ২১ দিন শোরুম বন্ধ থাকায় হাজার হাজার কর্মচারী তাঁদের বেতন পাননি। দোকান ভাড়া ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমনকি সন্তানদের স্কুলের বেতন পরিশোধ করাও অনেকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ তাদের চলমান ‘দোকান বন্ধ’ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে সব মোবাইল শোরুম পুনরায় খোলা থাকবে।
তবে ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এনইআইআরের দোহাই দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এই সিন্ডিকেটের অশুভ তৎপরতা রুখতে তাদের পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখার কর্মসূচি আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধনে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান সোহেলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক শতাধিক মোবাইল ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 















