ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

অ্যাননটেক্স কেলেঙ্কারি: সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়, ধরে নিচ্ছি সাম্প্রতিক) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২০ অক্টোবর এই মামলায় ড. বারকাতসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ড. বারকাত বাদে বাকি ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৪ মার্চের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারক।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, সাবেক সহকারী পরিচালক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম।

এছাড়া জনতা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. ইমদাদুল হক, নাগিবুল ইসলাম দীপু, আর এম দেবনাথ, মো. আবু নাসের, সঙ্গীতা আহমেদ ও অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র নাথও রয়েছেন এই তালিকায়।

অন্য আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবদুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আজমুল হক, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) অজয় কুমার ঘোষ, সাবেক ম্যানেজার (শিল্প ঋণ-১) মো. গোলাম আজম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, এসইও মো. এমদাদুল হক, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল জব্বার, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. গোলাম ফারুক ও ওমর ফারুক।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ বাদল, মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এবং পরিচালক মো. আবু তালহাকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ মামলার শুনানির সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ড. বারকাতকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিনের আবেদন জানালেও বিচারক তা নাকচ করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করে জনতা ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ৫৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে সুদ-আসলে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে ঋণের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

অ্যাননটেক্স কেলেঙ্কারি: সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়, ধরে নিচ্ছি সাম্প্রতিক) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ২০ অক্টোবর এই মামলায় ড. বারকাতসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এরপর গত ১৫ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ড. বারকাত বাদে বাকি ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৪ মার্চের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারক।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, সাবেক সহকারী পরিচালক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম।

এছাড়া জনতা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. ইমদাদুল হক, নাগিবুল ইসলাম দীপু, আর এম দেবনাথ, মো. আবু নাসের, সঙ্গীতা আহমেদ ও অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র নাথও রয়েছেন এই তালিকায়।

অন্য আসামিদের মধ্যে আরও আছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবদুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আজমুল হক, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) অজয় কুমার ঘোষ, সাবেক ম্যানেজার (শিল্প ঋণ-১) মো. গোলাম আজম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, এসইও মো. এমদাদুল হক, সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল জব্বার, সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. গোলাম ফারুক ও ওমর ফারুক।

অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ বাদল, মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এবং পরিচালক মো. আবু তালহাকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ মামলার শুনানির সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ড. বারকাতকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিনের আবেদন জানালেও বিচারক তা নাকচ করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করে জনতা ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ৫৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে সুদ-আসলে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে ঋণের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।