ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বিশ্বমানের গবেষণায় অনন্য উচ্চতায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীন জনপদ যশোরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। প্রতিষ্ঠার দেড় দশকের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা মানচিত্রেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যাপীঠ বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার সাজিয়ালী মৌজায় ৩৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজকে এর অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের আয়তন ৪৫ একরে উন্নীত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৮টি অনুষদের অধীনে ৩৮টি বিভাগ রয়েছে, যেখানে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। উচ্চতর গবেষণার জন্য এখানে রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট ফর হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’। ৩৩৮ জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে যবিপ্রবি আজ গবেষণার এক উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যবিপ্রবির সাফল্য বর্তমানে ঈর্ষণীয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (THE) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে গবেষণাপত্র প্রকাশনায় যবিপ্রবি দেশের অনেক প্রাচীন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও পেছনে ফেলেছে। ২০২৫ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন, যা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সামগ্রিকভাবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নবম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের সমন্বিত জরিপে এই স্বীকৃতি মিলেছে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যবিপ্রবি তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়েছে। প্রতিটি বিভাগে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘আউটকাম-বেইজড’ কারিকুলাম। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহিত করতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত রিসার্চ ফেলোশিপ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপান, চীন ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের ‘ভিজিটিং প্রফেসর’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘হিট’ প্রজেক্টের আওতায় ২০২৫ সালে যবিপ্রবির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেও যবিপ্রবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও ফিজিওথেরাপি বিভাগ নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে ‘তুমিই পারবে’ ও ‘তোমার পাশে সবসময়’-এর মতো উদ্ভাবনী কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। র‌্যাগিং ও যৌন নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রক্টরিয়াল বডির কঠোর নজরদারির পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বক্স।

গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন সারথি হিসেবে এগিয়ে চলেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগামী দিনে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

বিশ্বমানের গবেষণায় অনন্য উচ্চতায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীন জনপদ যশোরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। প্রতিষ্ঠার দেড় দশকের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা মানচিত্রেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যাপীঠ বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

যশোর সদর উপজেলার সাজিয়ালী মৌজায় ৩৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজকে এর অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের আয়তন ৪৫ একরে উন্নীত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৮টি অনুষদের অধীনে ৩৮টি বিভাগ রয়েছে, যেখানে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। উচ্চতর গবেষণার জন্য এখানে রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট ফর হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’। ৩৩৮ জন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে যবিপ্রবি আজ গবেষণার এক উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যবিপ্রবির সাফল্য বর্তমানে ঈর্ষণীয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ (THE) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে গবেষণাপত্র প্রকাশনায় যবিপ্রবি দেশের অনেক প্রাচীন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও পেছনে ফেলেছে। ২০২৫ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন, যা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সামগ্রিকভাবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নবম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের সমন্বিত জরিপে এই স্বীকৃতি মিলেছে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যবিপ্রবি তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে ঢেলে সাজিয়েছে। প্রতিটি বিভাগে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘আউটকাম-বেইজড’ কারিকুলাম। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহিত করতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত রিসার্চ ফেলোশিপ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাপান, চীন ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের ‘ভিজিটিং প্রফেসর’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘হিট’ প্রজেক্টের আওতায় ২০২৫ সালে যবিপ্রবির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

কেবল একাডেমিক শিক্ষা নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেও যবিপ্রবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও ফিজিওথেরাপি বিভাগ নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে ‘তুমিই পারবে’ ও ‘তোমার পাশে সবসময়’-এর মতো উদ্ভাবনী কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। র‌্যাগিং ও যৌন নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রক্টরিয়াল বডির কঠোর নজরদারির পাশাপাশি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বক্স।

গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন সারথি হিসেবে এগিয়ে চলেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগামী দিনে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।