ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে উত্তাল ক্যাম্পাস, উপাচার্যের ভবনে তালা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন হাইকোর্টের চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ জারির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবারের এই আকস্মিক ঘোষণায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে। এর আগে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা আসে। পরে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে এই তালা খুলে দেওয়া হলে উপাচার্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।

অবরোধ প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার প্রধান কাজ হবে শাকসুর রায়ের সিদ্ধান্ত আনা। উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে কোথাও যেতে হলে শিক্ষার্থীদের পূর্বানুমতি নিতে হবে। শুধুমাত্র শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের তা জানাতে হবে। এই শর্তগুলো মেনে নেওয়ার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে, শিক্ষাঙ্গনে এই নির্বাচন বন্ধের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে ইসলামী ছাত্রশিবির আজ দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার আগেই শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে পারলে ভবিষ্যতে আর কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

হাইকোর্টের রায় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ:

গত সোমবার শাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত একটি রিটের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে। তবে, আদালত আবেদনটি যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেনি উল্লেখ করে শুনানির জন্য গ্রহণ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করেছেন। গতকাল চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য সম্পূরক কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হলেও, আদালত নিয়মিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়ায় আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান বা আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। তবে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ১৫ জানুয়ারির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিন প্রার্থী গত রোববার হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

নির্বাচন বন্ধের দাবিতে দায়ের করা রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ শুনানি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন এবং অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে উত্তাল ক্যাম্পাস, উপাচার্যের ভবনে তালা

আপডেট সময় : ১০:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন হাইকোর্টের চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ জারির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল সোমবারের এই আকস্মিক ঘোষণায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে। এর আগে জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করার ঘোষণা আসে। পরে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে এই তালা খুলে দেওয়া হলে উপাচার্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন।

অবরোধ প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার প্রধান কাজ হবে শাকসুর রায়ের সিদ্ধান্ত আনা। উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে কোথাও যেতে হলে শিক্ষার্থীদের পূর্বানুমতি নিতে হবে। শুধুমাত্র শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের তা জানাতে হবে। এই শর্তগুলো মেনে নেওয়ার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে, শিক্ষাঙ্গনে এই নির্বাচন বন্ধের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে ইসলামী ছাত্রশিবির আজ দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসার আগেই শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে পারলে ভবিষ্যতে আর কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

হাইকোর্টের রায় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ:

গত সোমবার শাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত একটি রিটের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করে। তবে, আদালত আবেদনটি যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেনি উল্লেখ করে শুনানির জন্য গ্রহণ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করেছেন। গতকাল চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য সম্পূরক কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হলেও, আদালত নিয়মিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়ায় আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান বা আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। তবে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করে।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ১৫ জানুয়ারির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিন প্রার্থী গত রোববার হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

নির্বাচন বন্ধের দাবিতে দায়ের করা রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ শুনানি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন এবং অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন।