ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে স্থবিরতা: সংস্কারের সুযোগ কি হাতছাড়া হলো?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৮:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। নির্বাচনী ডামাডোলের এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে এখন নতুন সরকারকে বরণের প্রস্তুতি ও জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। তবে এই প্রস্তুতির আড়ালে দাপ্তরিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা, যা এখন অনেকটাই প্রকাশ্য।

জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছর পার করলেও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমলাতন্ত্রের সেই পুরনো ‘লালফিতার দৌরাত্ম্য’ এবং জনভোগান্তি রয়ে গেছে আগের মতোই। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি এবং ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের প্রতিযোগিতায় প্রশাসন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাবেক আমলা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমলাতন্ত্রের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারে সরকারের দুর্বল পদক্ষেপের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রশাসন তিনটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষার চেয়ে পদোন্নতি, কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছাকাছি হওয়ার জন্য এখন থেকেই শুরু হয়েছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। যদিও সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কেউ কেউ দাবি করছেন যে, নির্বাচনমুখী পরিবেশের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম মনে হতে পারে, তবে সার্বিকভাবে প্রশাসন সরকারকে সহযোগিতা করছে।

সংস্কার প্রস্তাব ও কর্মকর্তাদের ক্ষোভ
প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের (মুয়ীদ কমিশন) প্রস্তাবনা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ। কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরীক্ষা ছাড়া উপসচিব ও যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে না। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্যান্য ক্যাডার থেকে পদোন্নতির কোটা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে একচ্ছত্র আধিপত্য ভোগ করেন, কমিশনের এই প্রস্তাব তাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে প্রশাসনের কাজে স্থবিরতা এনেছে।

সম্পদের হিসাব ও অনীহা
দুর্নীতি রোধে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বর্তমান সরকার। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ জনগণ স্বাগত জানালেও আমলাতন্ত্রের ভেতরে এটি তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের বিবরণী সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করার মতো সক্ষমতা সরকারের নেই জেনেও এমন কঠোর হুঁশিয়ারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে হয়তো এই ধরনের জবাবদিহিতা থেকে তারা রেহাই পাবেন।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বিদেশে সম্পদ
প্রশাসনের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে পরিবারসহ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সদুত্তর মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ তাদের পরিবারকে বিদেশে স্থায়ী করে নিজেরা শুধু চাকরির স্বার্থে দেশে অবস্থান করছেন। এই ধরনের কর্মকর্তাদের প্রভাব ও অনীহার কারণে প্রশাসনিক সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপদেষ্টা পরিষদ বনাম আমলাতন্ত্র
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছে। বঞ্চিত ও সুবিধাভোগীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে না পারার ব্যর্থতা প্রশাসনকে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে গেছে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় প্রশাসনের রুটিন কার্যক্রম ছাড়া নীতি-নির্ধারণী সব কাজ এখন স্থবির। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, আমলাতন্ত্রকে রাজনীতিমুক্ত করতে না পারলে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। বর্তমান সরকারের সময় সংস্কারের যে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগাতে না পারার খেসারত আগামী সরকারকে দিতে হতে পারে। কর্মকর্তারা এখন থেকেই সম্ভাব্য ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, যা একটি পেশাদার আমলাতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। নতুন সরকারের জন্য এই বিশৃঙ্খল প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে স্থবিরতা: সংস্কারের সুযোগ কি হাতছাড়া হলো?

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। নির্বাচনী ডামাডোলের এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে এখন নতুন সরকারকে বরণের প্রস্তুতি ও জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। তবে এই প্রস্তুতির আড়ালে দাপ্তরিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা, যা এখন অনেকটাই প্রকাশ্য।

জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছর পার করলেও প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আমলাতন্ত্রের সেই পুরনো ‘লালফিতার দৌরাত্ম্য’ এবং জনভোগান্তি রয়ে গেছে আগের মতোই। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পরিবর্তে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি এবং ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের প্রতিযোগিতায় প্রশাসন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাবেক আমলা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমলাতন্ত্রের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারে সরকারের দুর্বল পদক্ষেপের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রশাসন তিনটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষার চেয়ে পদোন্নতি, কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কাছাকাছি হওয়ার জন্য এখন থেকেই শুরু হয়েছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। যদিও সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কেউ কেউ দাবি করছেন যে, নির্বাচনমুখী পরিবেশের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম মনে হতে পারে, তবে সার্বিকভাবে প্রশাসন সরকারকে সহযোগিতা করছে।

সংস্কার প্রস্তাব ও কর্মকর্তাদের ক্ষোভ
প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের (মুয়ীদ কমিশন) প্রস্তাবনা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ। কমিশনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরীক্ষা ছাড়া উপসচিব ও যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে না। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্যান্য ক্যাডার থেকে পদোন্নতির কোটা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির ক্ষেত্রে যে একচ্ছত্র আধিপত্য ভোগ করেন, কমিশনের এই প্রস্তাব তাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে প্রশাসনের কাজে স্থবিরতা এনেছে।

সম্পদের হিসাব ও অনীহা
দুর্নীতি রোধে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বর্তমান সরকার। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ জনগণ স্বাগত জানালেও আমলাতন্ত্রের ভেতরে এটি তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের বিবরণী সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করার মতো সক্ষমতা সরকারের নেই জেনেও এমন কঠোর হুঁশিয়ারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে হয়তো এই ধরনের জবাবদিহিতা থেকে তারা রেহাই পাবেন।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও বিদেশে সম্পদ
প্রশাসনের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে পরিবারসহ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সদুত্তর মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ তাদের পরিবারকে বিদেশে স্থায়ী করে নিজেরা শুধু চাকরির স্বার্থে দেশে অবস্থান করছেন। এই ধরনের কর্মকর্তাদের প্রভাব ও অনীহার কারণে প্রশাসনিক সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপদেষ্টা পরিষদ বনাম আমলাতন্ত্র
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ অনেক বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছে। বঞ্চিত ও সুবিধাভোগীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে না পারার ব্যর্থতা প্রশাসনকে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে গেছে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় প্রশাসনের রুটিন কার্যক্রম ছাড়া নীতি-নির্ধারণী সব কাজ এখন স্থবির। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, আমলাতন্ত্রকে রাজনীতিমুক্ত করতে না পারলে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। বর্তমান সরকারের সময় সংস্কারের যে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগাতে না পারার খেসারত আগামী সরকারকে দিতে হতে পারে। কর্মকর্তারা এখন থেকেই সম্ভাব্য ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, যা একটি পেশাদার আমলাতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। নতুন সরকারের জন্য এই বিশৃঙ্খল প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।