ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ২০০ প্রার্থী যাচ্ছেন হাইকোর্টে, নির্বাচন কমিশনের রায়ে অসন্তোষ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তে বাদ পড়া প্রায় ২০০ জন প্রার্থী এখন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সঞ্চার করেছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে বিভিন্ন কারণে যাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারা এখন ন্যায়বিচার পেতে আদালতের শরণাপন্ন হতে চান।

নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদনের উপর নয় দিন ধরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতে ঋণখেলাপী, দ্বৈত নাগরিকত্ব, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকা, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং মনোনয়নপত্র দাখিলে ত্রুটির মতো বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন রোববার এই ২০০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিলের সর্বশেষ সুযোগ শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

তবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে ৪১৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ২৭ জন প্রার্থী আপিল প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অথবা শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের আবেদন বাতিল হয়েছে। বিশেষ একটি ঘটনা হলো, কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে প্রার্থিতা বাতিল হলেও, শুনানির পর তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়া ২০০ জনের মধ্যে ৯৮ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়াও, বিএনপি, জামায়াত সহ ১৮টি রাজনৈতিক দলের ৫১ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৪ জন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৭ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৫ জন, বিএনপির ৪ জন, বিএনপির বিদ্রোহী ৪ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ২ জন এবং খেলাফত মজলিসের ২ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন। এছাড়া, আরও ১০ জন প্রার্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বাদ পড়া বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, ঋণখেলাপীর দায়ে কুমিল্লা-৪ আসনের মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, যশোর-৪ আসনের টি এস আইয়ুব এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লার আবদুল গফুর ভূঁইয়ার আবেদনও আপিলে নামঞ্জুর হয়েছে। এছাড়াও, দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত কিছু প্রার্থীও রয়েছেন যারা স্বতন্ত্রভাবে বা অন্য দলের ব্যানারে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন।

জাতীয় পার্টির দুটি গ্রুপের ২১ জন প্রার্থীও এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপার ১৪ জন এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) ৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েছেন।

প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়া বেশিরভাগ প্রার্থীই এখন হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, উচ্চ আদালত থেকে তারা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এই বিষয়ে একজন বাদ পড়া প্রার্থী বলেন, “আমরা আমাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাব এবং আশা করি আদালত আমাদের ন্যায়বিচার দেবে।”

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান এই পুরো প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর পরিবেশের বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, বাদ পড়া প্রার্থীদের এই আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ২০০ প্রার্থী যাচ্ছেন হাইকোর্টে, নির্বাচন কমিশনের রায়ে অসন্তোষ

আপডেট সময় : ১২:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তে বাদ পড়া প্রায় ২০০ জন প্রার্থী এখন উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশজুড়ে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সঞ্চার করেছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে বিভিন্ন কারণে যাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তারা এখন ন্যায়বিচার পেতে আদালতের শরণাপন্ন হতে চান।

নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদনের উপর নয় দিন ধরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতে ঋণখেলাপী, দ্বৈত নাগরিকত্ব, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকা, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং মনোনয়নপত্র দাখিলে ত্রুটির মতো বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন রোববার এই ২০০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিলের সর্বশেষ সুযোগ শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

তবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে ৪১৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ২৭ জন প্রার্থী আপিল প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অথবা শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের আবেদন বাতিল হয়েছে। বিশেষ একটি ঘটনা হলো, কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে প্রার্থিতা বাতিল হলেও, শুনানির পর তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়া ২০০ জনের মধ্যে ৯৮ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়াও, বিএনপি, জামায়াত সহ ১৮টি রাজনৈতিক দলের ৫১ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৪ জন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ৭ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৫ জন, বিএনপির ৪ জন, বিএনপির বিদ্রোহী ৪ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ২ জন এবং খেলাফত মজলিসের ২ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন। এছাড়া, আরও ১০ জন প্রার্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বাদ পড়া বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, ঋণখেলাপীর দায়ে কুমিল্লা-৪ আসনের মুঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, যশোর-৪ আসনের টি এস আইয়ুব এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লার আবদুল গফুর ভূঁইয়ার আবেদনও আপিলে নামঞ্জুর হয়েছে। এছাড়াও, দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত কিছু প্রার্থীও রয়েছেন যারা স্বতন্ত্রভাবে বা অন্য দলের ব্যানারে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন।

জাতীয় পার্টির দুটি গ্রুপের ২১ জন প্রার্থীও এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপার ১৪ জন এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) ৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েছেন।

প্রার্থিতা ফিরে না পাওয়া বেশিরভাগ প্রার্থীই এখন হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, উচ্চ আদালত থেকে তারা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। এই বিষয়ে একজন বাদ পড়া প্রার্থী বলেন, “আমরা আমাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাব এবং আশা করি আদালত আমাদের ন্যায়বিচার দেবে।”

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান এই পুরো প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর পরিবেশের বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, বাদ পড়া প্রার্থীদের এই আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।