ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং ঋণখেলাপি প্রার্থীদের আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধতা দেওয়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

হাসিব আল ইসলাম অভিযোগ করেন, যদি এই ধরনের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন, তবে দেশে দুর্নীতি এবং ঋণ পরিশোধে অনীহা আরও বাড়বে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হবে সাধারণ জনগণ। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আইন যদি সাধারণ মানুষের জন্য একরকম হয় এবং রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য ভিন্ন হয়, তবে তা হাজার হাজার শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন।” তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন।

সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক সরকারি আমলাদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “অতীতে প্রশাসন একদিকে ঝুঁকে ছিল, এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আমলাদের এখনো সংস্কার করা যায়নি, এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেও নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, গত পনেরো বছরে গুম, খুন, গণহত্যা ও ভোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আমলাদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমলারা যদি আবার কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের পক্ষে চক্রান্ত করে, তবে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

হাসিব আল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনো সময় আছে। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রার্থিতা বাতিল করে আপনাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তিনি বলেন, “নব্য ফ্যাসিবাদী, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বৈধতা দিয়ে কমিশন গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করছে।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে এবং চলমান আর্থিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্পষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পাসপোর্ট এবং দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সিনথিয়া জাহিন আয়েশা মন্তব্য করেন, “যারা সংকটকালে দেশের পাশে ছিল না, অতিথি পাখির মতো সুযোগ বুঝে দেশে আসে, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।” একইভাবে, ঋণখেলাপিদেরও জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে তিনি অভিহিত করেন। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়ন বাতিল না হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে সতর্ক করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আপডেট সময় : ১২:০০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং ঋণখেলাপি প্রার্থীদের আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাতিলের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এই আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধতা দেওয়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

হাসিব আল ইসলাম অভিযোগ করেন, যদি এই ধরনের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন, তবে দেশে দুর্নীতি এবং ঋণ পরিশোধে অনীহা আরও বাড়বে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হবে সাধারণ জনগণ। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আইন যদি সাধারণ মানুষের জন্য একরকম হয় এবং রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য ভিন্ন হয়, তবে তা হাজার হাজার শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন।” তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন।

সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক সরকারি আমলাদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “অতীতে প্রশাসন একদিকে ঝুঁকে ছিল, এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আমলাদের এখনো সংস্কার করা যায়নি, এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেও নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, গত পনেরো বছরে গুম, খুন, গণহত্যা ও ভোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আমলাদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমলারা যদি আবার কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের পক্ষে চক্রান্ত করে, তবে তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

হাসিব আল ইসলাম নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনো সময় আছে। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রার্থিতা বাতিল করে আপনাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তিনি বলেন, “নব্য ফ্যাসিবাদী, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বৈধতা দিয়ে কমিশন গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করছে।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে এবং চলমান আর্থিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অস্পষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে প্রার্থীদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি পাসপোর্ট এবং দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার তথ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সিনথিয়া জাহিন আয়েশা মন্তব্য করেন, “যারা সংকটকালে দেশের পাশে ছিল না, অতিথি পাখির মতো সুযোগ বুঝে দেশে আসে, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।” একইভাবে, ঋণখেলাপিদেরও জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে তিনি অভিহিত করেন। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনোনয়ন বাতিল না হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার ব্যাপারে সতর্ক করেন।