ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

মানসিক চিকিৎসার দাবিতে রাবি ছাত্রদলের মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দীন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনসংলগ্ন প্যারিস রোডে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সালাহউদ্দীন আম্মার তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টাঙানো ব্যানার খুলে ফেলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যেখানে ‘আমি আম্মার, আমি মানসিকভাবে অসুস্থ, আমার মানসিক চিকিৎসা দরকার’ এবং ‘আমি আম্মার, আমি মানসিক বিকারগ্রস্ত’ এমন বার্তা লেখা ছিল।

মানববন্ধনে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার তার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করেন। তারা বলেন, তিনি কখনো উপাচার্যের, কখনো আনসারের, আবার কখনো নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, পূর্বে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং আম্মারের মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি এই ব্যক্তি আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছেন। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এই ব্যক্তির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে তাকে দ্রুত পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হোক, অথবা তার পিতামাতার হাতে তুলে দেওয়া হোক। অন্যথায়, আমরা আগামীতে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত।”

রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন তালুকদার মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, “আজ আমরা দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমরা আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানের নামে একটি শুভেচ্ছা-বার্তা দিয়ে ব্যানার টাঙিয়েছিলাম, কিন্তু একটি গোষ্ঠী তা মেনে নিতে না পেরে ছিঁড়ে ফেলেছে। তারা আমাদের জাতীয়তাবাদী দলকে নিঃশেষ করে দিতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই ছেলেকে বিচারের আওতায় আনার অনুরোধ করব।”

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী আম্মারকে ‘উন্মাদ’ ও ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “জামায়াতপন্থি এক শিক্ষকের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। সালাহউদ্দীন আম্মার, যিনি জামায়াতপন্থি উপাচার্যের ছেলে হিসেবে পরিচিত, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন। এমন একজন মুনাফিক ছাত্রনেতা যখন ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন, তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যখন আমরা ব্যস্ত, তখন জানতে পারলাম যে এই তথাকথিত জিএস সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের নেতার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছেন।”

তিনি আরো বলেন, “একটি দায়িত্বশীল দলের ছাত্রনেতা হিসেবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ধৈর্য ধরে আছি। যদি ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চব্বিশ ঘণ্টা সময় দিয়ে বলছি— আপনারা দ্রুত এই উন্মাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করুন। যদি এই সময়ের মধ্যে তার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব উপাচার্যের নির্দেশেই তারেক রহমানের ব্যানার ছেঁড়া হয়েছে।”

মানববন্ধন শেষে নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট ও হল শাখার প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার, রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টাঙানো তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো ব্যানারটি খুলে ফেলেন। এই ঘটনাটি গতকাল (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ঘটেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

মানসিক চিকিৎসার দাবিতে রাবি ছাত্রদলের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দীন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনসংলগ্ন প্যারিস রোডে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসে সালাহউদ্দীন আম্মার তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টাঙানো ব্যানার খুলে ফেলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যেখানে ‘আমি আম্মার, আমি মানসিকভাবে অসুস্থ, আমার মানসিক চিকিৎসা দরকার’ এবং ‘আমি আম্মার, আমি মানসিক বিকারগ্রস্ত’ এমন বার্তা লেখা ছিল।

মানববন্ধনে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার তার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করেন। তারা বলেন, তিনি কখনো উপাচার্যের, কখনো আনসারের, আবার কখনো নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, পূর্বে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং আম্মারের মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি এই ব্যক্তি আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছেন। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এই ব্যক্তির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে তাকে দ্রুত পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হোক, অথবা তার পিতামাতার হাতে তুলে দেওয়া হোক। অন্যথায়, আমরা আগামীতে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত।”

রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন তালুকদার মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, “আজ আমরা দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমরা আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানের নামে একটি শুভেচ্ছা-বার্তা দিয়ে ব্যানার টাঙিয়েছিলাম, কিন্তু একটি গোষ্ঠী তা মেনে নিতে না পেরে ছিঁড়ে ফেলেছে। তারা আমাদের জাতীয়তাবাদী দলকে নিঃশেষ করে দিতে চায়। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই ছেলেকে বিচারের আওতায় আনার অনুরোধ করব।”

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী আম্মারকে ‘উন্মাদ’ ও ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “জামায়াতপন্থি এক শিক্ষকের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। সালাহউদ্দীন আম্মার, যিনি জামায়াতপন্থি উপাচার্যের ছেলে হিসেবে পরিচিত, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন। এমন একজন মুনাফিক ছাত্রনেতা যখন ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন, তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যখন আমরা ব্যস্ত, তখন জানতে পারলাম যে এই তথাকথিত জিএস সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের নেতার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছেন।”

তিনি আরো বলেন, “একটি দায়িত্বশীল দলের ছাত্রনেতা হিসেবে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ধৈর্য ধরে আছি। যদি ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চব্বিশ ঘণ্টা সময় দিয়ে বলছি— আপনারা দ্রুত এই উন্মাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করুন। যদি এই সময়ের মধ্যে তার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব উপাচার্যের নির্দেশেই তারেক রহমানের ব্যানার ছেঁড়া হয়েছে।”

মানববন্ধন শেষে নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট ও হল শাখার প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার, রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতির টাঙানো তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো ব্যানারটি খুলে ফেলেন। এই ঘটনাটি গতকাল (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ঘটেছিল।