ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরাময় সম্ভব, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

বাংলাদেশে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী গত তিন দশকে এর প্রকোপ বৃদ্ধির প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আশার কথা হলো, সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসার মাধ্যমে বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যান্সারই সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার বিএমইউর ব্লক অডিটোরিয়ামে ‘থাইরয়েড নডুল অ্যান্ড ক্যান্সার: আপডেট অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে জানানো হয়, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে অনেক থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আক্রান্ত অংশের অপারেশন (হেমিথাইরয়ডেক্টমি) করলেই রোগীরা দীর্ঘ দিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কিছু থাইরয়েড ক্যান্সার দীর্ঘদিন ধরে স্থিতাবস্থায় থাকে এবং রোগীর জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করে না। তাই চিকিৎসকদের এ রোগের আচরণ সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকি এবং খরচ—দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এমনকি জটিল বা খারাপ প্রকৃতির থাইরয়েড ক্যান্সারের জন্যও বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ রোগ নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বিএমইউর অটোল্যারিংগোলজি হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডা. কে এম এম আব্দুস সাত্তার তাঁর উপস্থাপিত ‘প্যারাডিজম শিফট ইন দ্য সার্জিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব থাইরয়েড ক্যান্সার’ শীর্ষক প্রবন্ধে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ মামুন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, নিনমাসের পরিচালক ও থাইরয়েড ডিভিশন প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী ‘দ্য থাইরয়েড মিস্ট্রি: ফাইডিংস অ্যান্ড ফিক্সিং নডুলস’ শীর্ষক একটি তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

২০২৬ সালের শান্তি নোবেলের দৌড়ে ২৮৭ প্রার্থী, আলোচনায় ট্রাম্পের নাম

থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরাময় সম্ভব, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

আপডেট সময় : ১১:১৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী গত তিন দশকে এর প্রকোপ বৃদ্ধির প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আশার কথা হলো, সঠিক ও সময়োপযোগী চিকিৎসার মাধ্যমে বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যান্সারই সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার বিএমইউর ব্লক অডিটোরিয়ামে ‘থাইরয়েড নডুল অ্যান্ড ক্যান্সার: আপডেট অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে জানানো হয়, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে অনেক থাইরয়েড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আক্রান্ত অংশের অপারেশন (হেমিথাইরয়ডেক্টমি) করলেই রোগীরা দীর্ঘ দিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কিছু থাইরয়েড ক্যান্সার দীর্ঘদিন ধরে স্থিতাবস্থায় থাকে এবং রোগীর জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করে না। তাই চিকিৎসকদের এ রোগের আচরণ সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকি এবং খরচ—দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এমনকি জটিল বা খারাপ প্রকৃতির থাইরয়েড ক্যান্সারের জন্যও বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ রোগ নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বিএমইউর অটোল্যারিংগোলজি হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডা. কে এম এম আব্দুস সাত্তার তাঁর উপস্থাপিত ‘প্যারাডিজম শিফট ইন দ্য সার্জিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব থাইরয়েড ক্যান্সার’ শীর্ষক প্রবন্ধে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ মামুন।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, নিনমাসের পরিচালক ও থাইরয়েড ডিভিশন প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী ‘দ্য থাইরয়েড মিস্ট্রি: ফাইডিংস অ্যান্ড ফিক্সিং নডুলস’ শীর্ষক একটি তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।