ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ: চালু হচ্ছে ই-টিকেটিং ও কাউন্টার ব্যবস্থাপনা

ঢাকা মহানগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলাচলকারী বাসগুলোতে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা নিরসনে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-টিকেটিং ও কাউন্টারভিত্তিক যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন এই ব্যবস্থায় রাজধানীর প্রতিটি বাস কেবল নির্ধারিত স্টপেজ থেকেই যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে। যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য মোবাইল অ্যাপ অথবা নির্ধারিত ডিভাইস ব্যবহার করে ই-টিকেট সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কোনোভাবেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত হাফ ভাড়ার সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তায় কাজ করছে আরবানমুভ টেক নামক একটি প্রতিষ্ঠান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আরবানমুভ টেক ই-টিকেটিং ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা চরম অরাজকতার মধ্য দিয়ে চলছে। নির্দিষ্ট স্টপেজের অভাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার অনুপস্থিতি এবং চালকদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দৈনিক চুক্তিতে গাড়ি চালানোর ফলে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়। নতুন এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে রাস্তায় অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে, যানজট হ্রাস পাবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পদ্ধতি চালুর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুই সিটি করপোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আট মাস ধরে ধারাবাহিক আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত বিষয়ে জানানো হয়, রাজধানীর আট শতাধিক বাস স্টপেজে কিউআর কোড স্থাপন করা হবে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যাত্রীরা এই কোড স্ক্যান করে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পারবেন। তবে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, তাদের সহায়তার জন্য সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি টিকিট মাস্টার মাঠে থাকবেন, যাদের কাছ থেকে সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। ই-টিকেট ব্যবস্থা চালু হলে মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী—সকল পক্ষই উপকৃত হবে এবং ঢাকাবাসী একটি আধুনিক পরিবহন সেবা পাবে। সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

২০২৬ সালের শান্তি নোবেলের দৌড়ে ২৮৭ প্রার্থী, আলোচনায় ট্রাম্পের নাম

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ: চালু হচ্ছে ই-টিকেটিং ও কাউন্টার ব্যবস্থাপনা

আপডেট সময় : ১০:৫০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা মহানগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলাচলকারী বাসগুলোতে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা নিরসনে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-টিকেটিং ও কাউন্টারভিত্তিক যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন এই ব্যবস্থায় রাজধানীর প্রতিটি বাস কেবল নির্ধারিত স্টপেজ থেকেই যাত্রী ওঠানামা করাতে পারবে। যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য মোবাইল অ্যাপ অথবা নির্ধারিত ডিভাইস ব্যবহার করে ই-টিকেট সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কোনোভাবেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত হাফ ভাড়ার সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশ, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তায় কাজ করছে আরবানমুভ টেক নামক একটি প্রতিষ্ঠান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আরবানমুভ টেক ই-টিকেটিং ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা চরম অরাজকতার মধ্য দিয়ে চলছে। নির্দিষ্ট স্টপেজের অভাব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার অনুপস্থিতি এবং চালকদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দৈনিক চুক্তিতে গাড়ি চালানোর ফলে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়। নতুন এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে রাস্তায় অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে, যানজট হ্রাস পাবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পদ্ধতি চালুর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুই সিটি করপোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আট মাস ধরে ধারাবাহিক আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত বিষয়ে জানানো হয়, রাজধানীর আট শতাধিক বাস স্টপেজে কিউআর কোড স্থাপন করা হবে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যাত্রীরা এই কোড স্ক্যান করে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পারবেন। তবে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, তাদের সহায়তার জন্য সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি টিকিট মাস্টার মাঠে থাকবেন, যাদের কাছ থেকে সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। ই-টিকেট ব্যবস্থা চালু হলে মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী—সকল পক্ষই উপকৃত হবে এবং ঢাকাবাসী একটি আধুনিক পরিবহন সেবা পাবে। সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।