ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জানুয়ারিতেও প্রকৃতিতে উষ্ণতার দাপট: চলতি মাসে নেই তীব্র শীতের সম্ভাবনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ভরা মাঘেও শীতের দেখা নেই, উল্টো পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও বায়ুমণ্ডলের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদগণ জানিয়েছেন, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে আর বড় ধরনের কোনো শৈত্যপ্রবাহ বা হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, টেকনাফে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনগুলোতেও ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। অন্যদিকে, কেবল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ছাড়া দেশের আর কোথাও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি। নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত তিনটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসেবে বর্তমানে দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই।

রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া চিত্রেও একই ধরনের উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৫ এবং সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৯৯০ সালের পর জানুয়ারি মাসের আবহাওয়া এমন অস্বাভাবিক আচরণ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণত বছরের এই সময়ে দেশজুড়ে তীব্র শীত থাকার কথা থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প শোষিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। বর্তমানে দেশের আকাশ পরিষ্কার থাকলেও তাপমাত্রা কমার তেমন কোনো জোরালো লক্ষণ নেই।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২২ ও ২৩ জানুয়ারির দিকে দেশের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে তা তীব্র শীতের অনুভূতি দেবে না। মাসের বাকি দিনগুলোতে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী থাকারই সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও আবহাওয়ার বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

২০২৬ সালের শান্তি নোবেলের দৌড়ে ২৮৭ প্রার্থী, আলোচনায় ট্রাম্পের নাম

জানুয়ারিতেও প্রকৃতিতে উষ্ণতার দাপট: চলতি মাসে নেই তীব্র শীতের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৬:১২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ভরা মাঘেও শীতের দেখা নেই, উল্টো পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও বায়ুমণ্ডলের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদগণ জানিয়েছেন, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে আর বড় ধরনের কোনো শৈত্যপ্রবাহ বা হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, টেকনাফে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনগুলোতেও ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। অন্যদিকে, কেবল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ছাড়া দেশের আর কোথাও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি। নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত তিনটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসেবে বর্তমানে দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই।

রাজধানী ঢাকার আবহাওয়া চিত্রেও একই ধরনের উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৫ এবং সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৯৯০ সালের পর জানুয়ারি মাসের আবহাওয়া এমন অস্বাভাবিক আচরণ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। সাধারণত বছরের এই সময়ে দেশজুড়ে তীব্র শীত থাকার কথা থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প শোষিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। বর্তমানে দেশের আকাশ পরিষ্কার থাকলেও তাপমাত্রা কমার তেমন কোনো জোরালো লক্ষণ নেই।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২২ ও ২৩ জানুয়ারির দিকে দেশের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে তা তীব্র শীতের অনুভূতি দেবে না। মাসের বাকি দিনগুলোতে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী থাকারই সম্ভাবনা বেশি। বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও আবহাওয়ার বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।