২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের পর সংঘটিত সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে ৮০ শতাংশই ছিলেন তরুণ এবং সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ওই দিনের ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নতুন আলোকপাত করেছে।
গবেষণাটির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় যারা প্রাণ হারান, তাদের সিংহভাগই কোনো রাজনৈতিক বা উগ্রবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন না। বরং তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ জনতা এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ছিলেন, যাদের বয়স তুলনামূলকভাবে কম। এই তথ্য নিহতদের একটি ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করেছে, যা তাদের সাধারণ নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে বিশাল সমাবেশ করে। দিনভর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চললেও রাত বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজত কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়, যদিও সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা কম দেখানো হয়েছিল।
এই গবেষণা শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের প্রকৃত পরিচয় এবং তাদের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গবেষকরা বলছেন, এই তথ্য প্রমাণ করে যে ওই দিনের ঘটনা কেবল একটি রাজনৈতিক সংঘাত ছিল না, বরং এতে সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ঘটনার পর থেকে এর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উন্মোচনের দাবি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। এই নতুন গবেষণা সেই দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
রিপোর্টারের নাম 















