দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তরে বিভক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য পৃথক দুটি প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হবে। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসাথে, নবগঠিত এই দুটি অধিদপ্তরের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) তৈরির লক্ষ্যে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ নামে একটি নতুন সংস্থা গঠিত হবে। অন্যদিকে, কলেজ এবং উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়াদি তত্ত্বাবধানের জন্য ‘উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর’ অথবা ‘উচ্চ শিক্ষা গবেষণা অধিদপ্তর’ নামে আরেকটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর কাজ করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত দুটি অধিদপ্তরে একজন করে মহাপরিচালক (ডিজি) এবং একাধিক অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (এডিজি) পদ রাখা হবে। তবে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পদের সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি। নবগঠিত আট সদস্যের কমিটি এই পদবিন্যাসসহ দুটি অধিদপ্তরের সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও জনবল বিন্যাস চূড়ান্ত করবে।
কমিটির কাজ শেষে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারির মাধ্যমে এই দুটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কার্যকর হবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিভাজনের ফলে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর তদারকি সম্ভব হবে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
রিপোর্টারের নাম 















