দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ইস্যুতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একজন আইনজীবী এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন, যেখানে সিইসির বিরুদ্ধে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক আইনজীবী সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না অথবা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে সিইসির সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো দেশের আইন ও সংবিধানের এই বিধানগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, সিইসি এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন, যার ফলে সংবিধানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো সঠিকভাবে যাচাই না করে অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীদের অনুমোদন দিয়েছে অথবা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং দেশের প্রতি নাগরিকদের আনুগত্যের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আইনজীবী তার নোটিশে সিইসিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তার এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা বা ভুল সিদ্ধান্ত সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নোটিশে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট আবেদনসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই আইনি নোটিশ দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং সুশীল সমাজে নতুন করে আলোচনা জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 















