সৃজনশীল মেধা বিকাশ ও দেশজ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে আয়োজিত ‘বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৮৭১ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বৃহৎ প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে মোট ১৪৩ জন খুদে শিল্পী পুরস্কার অর্জন করেন।
দেশের ইতিহাসে স্কুলপর্যায়ে অন্যতম বৃহৎ এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শনিবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী ও প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ডের প্রধান মনিরul ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান।
তিনটি ভিন্ন বিভাগে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় প্রথম বিভাগে তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি, দ্বিতীয় বিভাগে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি এবং তৃতীয় বিভাগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বিজয়ীদের মাঝে মোট ৩০ লাখ টাকা সমমূল্যের পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুরি বোর্ডের প্রধান মনিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, শিশুদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে এ ধরনের মেগা আর্ট ওয়ার্কশপ একটি অনন্য মাইলফলক। শিশুদের আঁকা ছবিতে কোনো তাত্ত্বিক জটিলতা থাকে না, বরং তা তাদের মনের অকৃত্রিম ভাষা প্রকাশ করে। বিশেষ করে অটিস্টিক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানসিক অবস্থা বুঝতে শিল্পচর্চা অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিল্পচর্চা কেবল শিল্পী হওয়ার জন্য নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন ও নন্দনতাত্ত্বিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অপরিহার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইয়াশা সোবহান বলেন, আজকের এই আয়োজন কেবল পুরস্কার বিতরণের নয়, বরং শিশুদের কল্পনা ও সৃজনশীলতাকে উদ্যাপন করার দিন। শিক্ষার্থীরা তাদের তুলির আঁচড়ে দেশের স্বাধীনতা ও ত্যাগের ইতিহাস ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের প্রতিভা প্রমাণ করেছে যে মেধার কোনো সীমারেখা নেই। বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের পাশে থাকে এবং আগামীতেও এ ধরনের মহতী উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য শিল্পী আবদুস শাকুর শাহ, অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান, অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান এবং বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
অধ্যক্ষ মো. আনিছুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতার ইতিহাস এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে এক ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতেই এই আয়োজন। বর্তমানের এই আয়োজন দশম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও আগামী বছর থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরও বৃহৎ পরিসরে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 















