রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) এক শিক্ষককে জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার জেরে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে এই শোকজ প্রত্যাহার এবং শিক্ষকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে বিক্ষোভ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে ইউএপির [বিভাগ উল্লেখ না থাকলে সাধারণ রাখা ভালো, যেমন: ‘একটি বিভাগের’] একজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে তার একটি ছবি পোস্ট করেন। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষককে একটি শোকজ নোটিশ পাঠায়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকের এই কাজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে তিনি ‘অসদাচরণ’ করেছেন। আগামী [নির্দিষ্ট সময়, যেমন: ‘পাঁচ কার্যদিবসের’] মধ্যে তাকে এই অভিযোগের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। তার ওয়াজ মাহফিল ও ইসলামিক আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার সঙ্গে ছবি তোলায় একজন শিক্ষককে শোকজ করার ঘটনাকে শিক্ষার্থীরা ‘অযৌক্তিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত জীবনে কে কার সঙ্গে ছবি তুলবেন, তা একান্তই তার নিজস্ব বিষয়। শায়খ আহমাদুল্লাহ একজন স্বীকৃত ইসলামিক স্কলার এবং তার সঙ্গে ছবি তোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। তারা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে ভীতি তৈরি করবে এবং মুক্তচিন্তার পরিবেশ নষ্ট করবে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত শোকজ প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া সকল পদক্ষেপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অথবা উপাচার্যের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ তৈরি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। পুরো ঘটনাটি শিক্ষা মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 















