ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

চূড়ান্ত হলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ: বৃহস্পতিবার অনুমোদনের সম্ভাবনা, জনদুর্ভোগ এড়ানোর আহ্বান

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনসাধারণের পরামর্শ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। গত রোববার এই চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কাঠামোগত সংস্কারের কাজগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এই মহৎ উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অধ্যাদেশটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় কোনো প্রকার আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল কর্মসূচি পালন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে, অধ্যাদেশ দ্রুত ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিম’ ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব ড. এ.কে.এম. তাজকির-উজ-জামানের এই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটি অনুমোদনের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ওই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সরকারি কলেজ— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হতে যাচ্ছে। পরিমার্জিত খসড়া অনুযায়ী, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও কলেজগুলো তাদের বর্তমান স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এই পদক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধৈর্যশীল এবং সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামরাঙ্গীরচরে কারখানায় কাজ করার সময় শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

চূড়ান্ত হলো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ: বৃহস্পতিবার অনুমোদনের সম্ভাবনা, জনদুর্ভোগ এড়ানোর আহ্বান

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনসাধারণের পরামর্শ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। গত রোববার এই চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কাঠামোগত সংস্কারের কাজগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এই মহৎ উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অধ্যাদেশটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় কোনো প্রকার আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল কর্মসূচি পালন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে, অধ্যাদেশ দ্রুত ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ‘সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিম’ ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব ড. এ.কে.এম. তাজকির-উজ-জামানের এই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটি অনুমোদনের জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ওই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাতটি সরকারি কলেজ— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হতে যাচ্ছে। পরিমার্জিত খসড়া অনুযায়ী, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও কলেজগুলো তাদের বর্তমান স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এই পদক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধৈর্যশীল এবং সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।