ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীর অযোগ্যতা ও আইনি বাধ্যবাধকতার আদ্যোপান্ত

বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতায় অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের যথাযথ প্রমাণ দাখিল না করা কিংবা হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে একাধিক আপিল জমা পড়েছে। অনেক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেছেন, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ফেনী-৩ আসনের একটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়। সেখানে এক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইসিতে আপিল করেছেন। মূলত বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন, তবে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ঘর রয়েছে, যেখানে প্রার্থীকে তার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে হয়।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও আইনজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো অনেক বেশি কঠোর। জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করেই সংবিধানে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মূল কারণ হিসেবে নাগরিকত্ব ত্যাগের যথাযথ সনদ বা প্রমাণাদি উপস্থাপনে ব্যর্থতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে না পারলে এসব প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে থাকা সম্ভব হবে না। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামরাঙ্গীরচরে কারখানায় কাজ করার সময় শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীর অযোগ্যতা ও আইনি বাধ্যবাধকতার আদ্যোপান্ত

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতায় অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের যথাযথ প্রমাণ দাখিল না করা কিংবা হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে একাধিক আপিল জমা পড়েছে। অনেক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদন করেছেন, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ফেনী-৩ আসনের একটি ঘটনার উল্লেখ করা যায়। সেখানে এক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইসিতে আপিল করেছেন। মূলত বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন, তবে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্য হবেন না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ঘর রয়েছে, যেখানে প্রার্থীকে তার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে হয়।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও আইনজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো অনেক বেশি কঠোর। জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সংবেদনশীলতার কথা বিবেচনা করেই সংবিধানে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মূল কারণ হিসেবে নাগরিকত্ব ত্যাগের যথাযথ সনদ বা প্রমাণাদি উপস্থাপনে ব্যর্থতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে না পারলে এসব প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে থাকা সম্ভব হবে না। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।