ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে পক্ষপাতের অভিযোগ আরও ঘনীভূত

দেশের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যমান পক্ষপাতের অভিযোগগুলোকে এসব কর্মকাণ্ড আরও জোরালো ভিত্তি দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির যে ধরনের নির্লিপ্ত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সকল পক্ষের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে কমিশন দৃশ্যত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পরোক্ষভাবে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার শামিল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক রদবদল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের দ্বিমুখী আচরণ পক্ষপাতের এই অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল বা প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষায় কমিশনের নমনীয় মনোভাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। বিভিন্ন সময়ে ওঠা অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিপরীতে কমিশনের নির্লিপ্ততা বা দায়সারা গোছের তদন্ত প্রক্রিয়া জনমনে এই ধারণাই স্পষ্ট করছে যে, প্রতিষ্ঠানটি তার সাংবিধানিক ম্যান্ডেট রক্ষায় যথেষ্ট সচেষ্ট নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখা একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিশনের কর্মকাণ্ড সেই আস্থার সংকটকে দূর করার পরিবর্তে আরও ঘনীভূত করেছে। যদি কমিশন অবিলম্বে তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করে এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণে দৃশ্যমান ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও মনে করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে স্বচ্ছ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামরাঙ্গীরচরে কারখানায় কাজ করার সময় শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে পক্ষপাতের অভিযোগ আরও ঘনীভূত

আপডেট সময় : ০৫:২৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যমান পক্ষপাতের অভিযোগগুলোকে এসব কর্মকাণ্ড আরও জোরালো ভিত্তি দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির যে ধরনের নির্লিপ্ত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের কথা ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সকল পক্ষের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে কমিশন দৃশ্যত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পরোক্ষভাবে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার শামিল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক রদবদল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কমিশনের দ্বিমুখী আচরণ পক্ষপাতের এই অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল বা প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষায় কমিশনের নমনীয় মনোভাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। বিভিন্ন সময়ে ওঠা অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিপরীতে কমিশনের নির্লিপ্ততা বা দায়সারা গোছের তদন্ত প্রক্রিয়া জনমনে এই ধারণাই স্পষ্ট করছে যে, প্রতিষ্ঠানটি তার সাংবিধানিক ম্যান্ডেট রক্ষায় যথেষ্ট সচেষ্ট নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখা একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিশনের কর্মকাণ্ড সেই আস্থার সংকটকে দূর করার পরিবর্তে আরও ঘনীভূত করেছে। যদি কমিশন অবিলম্বে তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করে এবং নিরপেক্ষতা প্রমাণে দৃশ্যমান ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও মনে করেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে স্বচ্ছ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে।