অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন যে, দেশে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে এবং এই সংস্কারের ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা অনেকের কাছে এক ধরনের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে, যা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি প্রচার বা ‘ভিউ’ পাওয়ার কৌশল। সংস্কারের অভাব নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো সংস্কার হয়নি—এমন দাবি সঠিক নয়। বরং যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা যদি ১০ পয়েন্ট হয়ে থাকে, তবে আমরা অন্তত ৪ পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছি।” তবে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার কার্যক্রম প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি বলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন।
বিচার বিভাগের নিয়োগ ও মর্যাদা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে বা দলীয় আনুগত্য প্রদর্শন করে ভবিষ্যতে আর কেউ বিচারক হতে পারবেন না। তিনি বলেন, “১০ বছর ‘জয় বাংলা’ বা ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলা বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা হতে পারে না।” উচ্চ আদালতের প্রয়োজনীয় সংস্কার উচ্চ আদালত থেকেই সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, বর্তমান সরকার সংস্কারের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করছে, যা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও দেখা যায়নি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে পূর্ণাঙ্গভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় প্রয়োজন। তবে বর্তমান সংস্কারের এই ধারা যদি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারগুলো বজায় রাখে, তবেই জনগণ প্রকৃত সুফল পাবে।
রিপোর্টারের নাম 















