দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর উপশাখাগুলোতে আমানতের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত এক বছরেই এসব উপশাখায় আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এছাড়া বর্তমানে ব্যাংকটির মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ইসলামী ব্যাংকের ‘উপশাখা ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে’ এসব তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ ওমর ফারুক খাঁন।
সম্মেলনে জানানো হয়, প্রবাসীদের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক টানা ১৮ বছর ধরে রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। গত এক বছরে এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে, যার মধ্যে গত এক বছরেই যুক্ত হয়েছেন নতুন ৫০ লক্ষ গ্রাহক। বর্তমানে ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা, ২,৭৮৮টি এজেন্ট আউটলেট এবং ৩,০৪০টি এটিএম ও সিআরএম বুথের মাধ্যমে ব্যাংকটি গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করছে।
অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ আলতাফ হুসাইন ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ মাহবুব আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ রফিকুল ইসলাম ও কে এম মুনিরুল আলম আল-মামুনসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী এবং ২৭১টি উপশাখার ইনচার্জগণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওমর ফারুক খাঁন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের আস্থা পুনরায় ফিরে এসেছে। ২০২৫ সালের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ আমানত সংগ্রহ এবং রেমিট্যান্স আহরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি শক্তিশালী, শরী’আহ ভিত্তিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য। ‘ইনোভেশন অ্যান্ড ডিজিটাইজেশন ড্রাইভিং ট্রান্সফরমেশন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাংকের সকল সেবায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তিনি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক তার শীর্ষস্থান বজায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 















