গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। এই প্রেক্ষাপটে, একজন সচেতন নাগরিক ও ভোটার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(গ) এবং ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি আইনগতভাবে তাদের বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা রাখেন না। তবে, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে কেবল নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে, যা দেশের সর্বোচ্চ আইন ও বিচার বিভাগের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশে (রিট পিটিশন নং ১৬৪৬৩/২০২৩) দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে। ওই আদেশে বলা হয়েছে যে, বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবেন। কেবল আবেদন করাটাই নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য যথেষ্ট নয়। এই আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে।
অভিযোগকারী আরও জানান যে, নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানির সময় প্রার্থীদের কাছ থেকে এফিডেভিট আকারে একটি অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করছে এবং এর ভিত্তিতেই তাদের মনোনয়ন বৈধতা দিচ্ছে। এটি আইনের পরিপন্থী। একইসঙ্গে, নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগে বহাল থাকা আদেশের পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করছে, যা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ বলেন, বিদেশি নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কেবল ‘প্রক্রিয়াধীন আবেদন’-এর ভিত্তিতে মনোনয়ন বৈধ করা হয়, তবে তা কেবল সংবিধানকেই লঙ্ঘন করবে না, বরং সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থাকেও ক্ষুণ্ন করবে। নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে পারে না।
রিপোর্টারের নাম 















