জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে প্রাণ হারানো শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে শহীদ পরিবারের আর্তনাদ শোনেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আনাসের মা তার বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে তারেক রহমান সকল শহীদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। আমার ছেলের হত্যাকারীরা আজও গ্রেপ্তার হয়নি।” তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, শহীদ পরিবারগুলো প্রত্যাশা করে যে ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারা ন্যায়বিচার পাবে এবং জনগণের সঙ্গে কোনো প্রকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে না।
আন্দোলনে শহীদ জাহিদের মা ফাতেমাতুর জোহরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার সন্তানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার জিসানকে (জাহিদ) হারানোর পর এই পৃথিবীতে আমার আর কেউ রইল না। আমার বড় ছেলে আমাকে অত্যন্ত আদর করে ডাকত। দীর্ঘ ১৭ মাস হতে চলল, কেউ আর আমাকে সেই নামে ডাকে না।” তিনি আরও জানান, মৃত্যুঝুঁকি ও কঠিন সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের যে সহযোগিতা করা হয়েছে, তা না থাকলে ছেলের চিকিৎসা করানো সম্ভব হতো না। সংকটের সময় অন্য কাউকে পাশে না পেলেও বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের বক্তব্যে তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং তার পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, বিএনপি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সভাটি এক শোকাতুর ও আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যেখানে শহীদ পরিবারের কান্নায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে।
রিপোর্টারের নাম 















