ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: নিহতদের ৮০ শতাংশই সাধারণ নাগরিক, গুলিতে প্রাণহানি ৮৫%

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

২০১৩ সালের ৬ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংস দমন অভিযানের পর নিহতদের ৮০ শতাংশই ছিলেন সাধারণ মানুষ, যারা মাদরাসার ছাত্র ছিলেন না। তাদের গড় বয়স ছিল ২৯ বছর এবং মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই ঘটেছিল গুলির আঘাতে। সম্প্রতি বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে, যা শাপলা চত্বর আন্দোলনকে কেবল মাদরাসাকেন্দ্রিক বলে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড (২০১৩) : বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি দৃষ্টান্ত’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। গবেষণাটি করেছেন মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন, মুনাইম খান, সাদীদ হোসেন এবং এস এম ইয়াসির আরাফাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের শুরুতে বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে সামাজিক উত্তেজনা দেখা দেয়। ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন শুরু করে এবং ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল ‘লং মার্চ’-এ লাখ লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেয়। তবে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় ৫ মে ২০১৩ তারিখে পুনরায় বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ৬ মে ভোররাতে সরকারি বাহিনী নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। হামলার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সাউন্ড সিস্টেম ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রায় ৭৫০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে এই হামলা চালায়। হামলার সময় টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, ফুটন্ত পানি এবং তাজা গুলি ব্যবহার করা হয়। এই হামলায় অন্তত ৫০ হাজার প্রতিবাদকারীকে ছত্রভঙ্গ করা হয়।

শাপলা চত্বরের ওই অভিযানে পুলিশ ৫ হাজার ৭১২ জন, র‍্যাব ১,৩০০ জন এবং বিজিবি ৫৭৬ জন অংশ নেয়। অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ, যার মধ্যে ৮০ হাজার তাজা গুলি, ৬০ হাজার টিয়ার শেল, ১৫ হাজার রাবার বুলেট, ১২ হাজার শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৩৫০টি রিভলবার শটগান।

নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অন্তত ৫৮ জন, অধিকার ৬১ জন এবং হেফাজতে ইসলাম ৯৩ জন মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছে। বেওয়ারিশ লাশ দাফনকারী সংস্থা আনজুমান-এ-মফিদুল ইসলামের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে দাফনকৃত মরদেহের সংখ্যা অন্যান্য মাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ছিল। অনুমান করা হয়, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩ থেকে ৩২৭ জনের মধ্যে হতে পারে।

অধিকারের দেওয়া ৬১ জন নিহতের বিস্তারিত জনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৯ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী, ৪ জন মাদরাসা শিক্ষক/ইমাম, ৯ জন স্কুল বা কলেজ শিক্ষার্থী, ৫ জন চাকরিজীবী, ৬ জন পোশাক/কারখানা শ্রমিক, ৭ জন ড্রাইভার/রিকশা চালক/ভ্যান চালক, ৫ জন হকার/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী/সবজি বিক্রেতা, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন রাজমিস্ত্রি/ইলেক্ট্রিশিয়ান, ৪ জন বাস/ভ্যান হেল্পার, ৩ জন দর্জি/দিনমজুর/কৃষক এবং ৫ জন অজানা পেশার ছিলেন। অর্থাৎ মোট ৪৮ জন সাধারণ নাগরিক ছিলেন, যাদের মাদরাসা-সম্পর্কিত কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না।

নিহতদের মৃত্যুর কারণও বিশদভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ১৪ জন মাথায় গুলির আঘাতে, ১৯ জন বুক-পেট-কোমরে গুলির আঘাতে, ২০ জন অনির্দিষ্ট স্থানে গুলির আঘাতে, ১ জন ছুরিকাঘাতে এবং ২ জনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই ঘটেছে গুলির আঘাতে।

অভিযান চলাকালে দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ঘটনার কোনো বিচারিক তদন্ত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালে সরকারের পতনের পরই শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করা হয়।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এটিকে একটি পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর লক্ষ্যবস্তু হামলার উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পরিমাণ সবই এই শ্রেণিবিন্যাসকে সমর্থন করে বলে গবেষকরা জানান।

গবেষণা দলের সদস্য ড. মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রভাব ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক। ব্যক্তিগতভাবে হতাহত পরিবারের সদস্যরা মানসিক চাপ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতা, শোক এবং বিষণ্ণতা অনুভব করেছেন। সামাজিকভাবে এ ধরনের হামলা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে।

গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সহিংসতার একটি চরম উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে যে, নিহতদের ৮০ শতাংশ সাধারণ নাগরিক ছিলেন, যারা রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে ধর্মীয় আবেগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে এর ইতিহাস, সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ সমন্বিত করা অত্যাবশ্যক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: নিহতদের ৮০ শতাংশই সাধারণ নাগরিক, গুলিতে প্রাণহানি ৮৫%

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

২০১৩ সালের ৬ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংস দমন অভিযানের পর নিহতদের ৮০ শতাংশই ছিলেন সাধারণ মানুষ, যারা মাদরাসার ছাত্র ছিলেন না। তাদের গড় বয়স ছিল ২৯ বছর এবং মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই ঘটেছিল গুলির আঘাতে। সম্প্রতি বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে, যা শাপলা চত্বর আন্দোলনকে কেবল মাদরাসাকেন্দ্রিক বলে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে।

‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড (২০১৩) : বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি দৃষ্টান্ত’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। গবেষণাটি করেছেন মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন, মুনাইম খান, সাদীদ হোসেন এবং এস এম ইয়াসির আরাফাত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের শুরুতে বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো মন্তব্য এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে সামাজিক উত্তেজনা দেখা দেয়। ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন শুরু করে এবং ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল ‘লং মার্চ’-এ লাখ লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেয়। তবে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় ৫ মে ২০১৩ তারিখে পুনরায় বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ৬ মে ভোররাতে সরকারি বাহিনী নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। হামলার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সাউন্ড সিস্টেম ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। প্রায় ৭৫০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে এই হামলা চালায়। হামলার সময় টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, ফুটন্ত পানি এবং তাজা গুলি ব্যবহার করা হয়। এই হামলায় অন্তত ৫০ হাজার প্রতিবাদকারীকে ছত্রভঙ্গ করা হয়।

শাপলা চত্বরের ওই অভিযানে পুলিশ ৫ হাজার ৭১২ জন, র‍্যাব ১,৩০০ জন এবং বিজিবি ৫৭৬ জন অংশ নেয়। অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ, যার মধ্যে ৮০ হাজার তাজা গুলি, ৬০ হাজার টিয়ার শেল, ১৫ হাজার রাবার বুলেট, ১২ হাজার শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৩৫০টি রিভলবার শটগান।

নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অন্তত ৫৮ জন, অধিকার ৬১ জন এবং হেফাজতে ইসলাম ৯৩ জন মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছে। বেওয়ারিশ লাশ দাফনকারী সংস্থা আনজুমান-এ-মফিদুল ইসলামের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে দাফনকৃত মরদেহের সংখ্যা অন্যান্য মাসের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ছিল। অনুমান করা হয়, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩ থেকে ৩২৭ জনের মধ্যে হতে পারে।

অধিকারের দেওয়া ৬১ জন নিহতের বিস্তারিত জনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৯ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী, ৪ জন মাদরাসা শিক্ষক/ইমাম, ৯ জন স্কুল বা কলেজ শিক্ষার্থী, ৫ জন চাকরিজীবী, ৬ জন পোশাক/কারখানা শ্রমিক, ৭ জন ড্রাইভার/রিকশা চালক/ভ্যান চালক, ৫ জন হকার/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী/সবজি বিক্রেতা, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন রাজমিস্ত্রি/ইলেক্ট্রিশিয়ান, ৪ জন বাস/ভ্যান হেল্পার, ৩ জন দর্জি/দিনমজুর/কৃষক এবং ৫ জন অজানা পেশার ছিলেন। অর্থাৎ মোট ৪৮ জন সাধারণ নাগরিক ছিলেন, যাদের মাদরাসা-সম্পর্কিত কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না।

নিহতদের মৃত্যুর কারণও বিশদভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ১৪ জন মাথায় গুলির আঘাতে, ১৯ জন বুক-পেট-কোমরে গুলির আঘাতে, ২০ জন অনির্দিষ্ট স্থানে গুলির আঘাতে, ১ জন ছুরিকাঘাতে এবং ২ জনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই ঘটেছে গুলির আঘাতে।

অভিযান চলাকালে দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ঘটনার কোনো বিচারিক তদন্ত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালে সরকারের পতনের পরই শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করা হয়।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এটিকে একটি পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর লক্ষ্যবস্তু হামলার উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং পরিমাণ সবই এই শ্রেণিবিন্যাসকে সমর্থন করে বলে গবেষকরা জানান।

গবেষণা দলের সদস্য ড. মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রভাব ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক। ব্যক্তিগতভাবে হতাহত পরিবারের সদস্যরা মানসিক চাপ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতা, শোক এবং বিষণ্ণতা অনুভব করেছেন। সামাজিকভাবে এ ধরনের হামলা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে।

গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সহিংসতার একটি চরম উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে যে, নিহতদের ৮০ শতাংশ সাধারণ নাগরিক ছিলেন, যারা রাজনৈতিক আনুগত্যের চেয়ে ধর্মীয় আবেগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে এর ইতিহাস, সাক্ষ্য ও ফরেনসিক প্রমাণ সমন্বিত করা অত্যাবশ্যক।