ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

আট বছরেও সফলতা পায়নি এমএনপি সেবা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

## আট বছরেও সাড়া জাগাতে পারেনি মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি সেবা

ঢাকা: যেকোনো মোবাইল অপারেটরের সিম নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অন্য অপারেটরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, যা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা নামে পরিচিত, বাংলাদেশে চালু হওয়ার আট বছর পরও প্রত্যাশিত সফলতা পায়নি। গ্রাহকদের উন্নত সেবা ও সুবিধা অনুযায়ী অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ করে দিতে এবং অপারেটরদের মধ্যে সেবার মান উন্নয়নে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এই সেবার প্রচলন হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা ও উদাসীনতার কারণে এটি কাঙ্ক্ষিত সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একাধিক প্রতিষ্ঠান এমএনপি সেবা দেওয়ার লাইসেন্স লাভ করে। এমএনপি লাইসেন্সিং গাইডলাইনে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক (রেগুলেটরি টুল) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন এবং অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যদিও উন্নত বিশ্বে এমএনপি সেবা বেশ জনপ্রিয়, বাংলাদেশে এর বিকাশ খুবই সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএনপি সেবার প্রসারে বেশ কিছু নীতিগত ও ব্যবহারিক বাধা রয়েছে। বিটিআরসি কর্তৃক ২০১৮ সালের এমএনপি বিষয়ক নির্দেশিকা বাতিল করে মোবাইল অপারেটরদের এই সেবায় প্রণোদনা দেওয়ার পথ সুগম করা প্রয়োজন। এছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমএনপি সেবার উপর উচ্চ করহার পুনর্বিবেচনা করা এবং গ্রাহকদের মাস্কিং এসএমএস প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। এমএনপি সেবার সামগ্রিক পর্যালোচনা এবং এসএমএস সেবার ডাইরেক্ট ক্লায়েন্ট বিষয়টি পুনর্বিবেচনারও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তিবিদ তানভীর জোহা মনে করেন, এমএনপি সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে, তবে জনগণের অর্থ অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে এবং সেবার ব্যবহার বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানান, একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে কাজ করছে।

সাফল্য না পাওয়ার কারণসমূহ:

বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের উদাসীনতা: এমএনপি সেবাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কথা থাকলেও, কার্যকর উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে অপারেটররা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান করে, সেখানে বাংলাদেশে বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞার কারণে অপারেটররা কোনো প্রকার প্রণোদনা দিতে পারছে না।

এনবিআর কর্তৃক উচ্চ কর আরোপ: প্রাথমিকভাবে সিমের উপর উচ্চ কর হার এমএনপি সেবাকে ব্যয়বহুল করে তুলেছিল, যা গ্রাহকদের নম্বর পরিবর্তনে নিরুৎসাহিত করেছিল। পরবর্তীতে কর মওকুফ করায় সেবার ব্যবহার কিছুটা বাড়লেও, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এই কর মওকুফ বাতিল হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং পোর্টিংয়ের সংখ্যা আবার হ্রাস পায়। বর্তমানে এমএনপি ফি বাবদ গ্রাহকদের ৪৫০ টাকা প্রদান করতে হয়, যা অনেক দেশের তুলনায় বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই এই সেবা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যায়।

এসএমএস গ্রহণের ক্ষেত্রে মাস্কিং সুবিধার অভাব: বিটিআরসির একটি নির্দেশনার কারণে এমএনপি নম্বর ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সংবেদনশীল প্ল্যাটফর্ম থেকে মাস্কিং এসএমএস গ্রহণ করতে পারেন না। এর ফলে গ্রাহকরা নানা সমস্যায় পড়েন, যা এমএনপি সেবা বাস্তবায়নে একটি বড় অন্তরায়।

সার্বিক পর্যালোচনার অভাব: পোর্টিং এবং ডিপিং এমএনপি সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদ্যমান পোর্টিংয়ের বাধাগুলো দূর না করে ডিপিং সার্ভিসের পরিবর্তন সেবার মান উন্নয়নে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাই এমএনপি সেবার সামগ্রিক একটি পর্যালোচনা এবং যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

আট বছরেও সফলতা পায়নি এমএনপি সেবা

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

## আট বছরেও সাড়া জাগাতে পারেনি মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি সেবা

ঢাকা: যেকোনো মোবাইল অপারেটরের সিম নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অন্য অপারেটরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, যা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা নামে পরিচিত, বাংলাদেশে চালু হওয়ার আট বছর পরও প্রত্যাশিত সফলতা পায়নি। গ্রাহকদের উন্নত সেবা ও সুবিধা অনুযায়ী অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ করে দিতে এবং অপারেটরদের মধ্যে সেবার মান উন্নয়নে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এই সেবার প্রচলন হয়েছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা ও উদাসীনতার কারণে এটি কাঙ্ক্ষিত সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একাধিক প্রতিষ্ঠান এমএনপি সেবা দেওয়ার লাইসেন্স লাভ করে। এমএনপি লাইসেন্সিং গাইডলাইনে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক (রেগুলেটরি টুল) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন এবং অপারেটরদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যদিও উন্নত বিশ্বে এমএনপি সেবা বেশ জনপ্রিয়, বাংলাদেশে এর বিকাশ খুবই সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমএনপি সেবার প্রসারে বেশ কিছু নীতিগত ও ব্যবহারিক বাধা রয়েছে। বিটিআরসি কর্তৃক ২০১৮ সালের এমএনপি বিষয়ক নির্দেশিকা বাতিল করে মোবাইল অপারেটরদের এই সেবায় প্রণোদনা দেওয়ার পথ সুগম করা প্রয়োজন। এছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমএনপি সেবার উপর উচ্চ করহার পুনর্বিবেচনা করা এবং গ্রাহকদের মাস্কিং এসএমএস প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। এমএনপি সেবার সামগ্রিক পর্যালোচনা এবং এসএমএস সেবার ডাইরেক্ট ক্লায়েন্ট বিষয়টি পুনর্বিবেচনারও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তিবিদ তানভীর জোহা মনে করেন, এমএনপি সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে, তবে জনগণের অর্থ অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে এবং সেবার ব্যবহার বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানান, একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে কাজ করছে।

সাফল্য না পাওয়ার কারণসমূহ:

বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের উদাসীনতা: এমএনপি সেবাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের কথা থাকলেও, কার্যকর উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে অপারেটররা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদান করে, সেখানে বাংলাদেশে বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞার কারণে অপারেটররা কোনো প্রকার প্রণোদনা দিতে পারছে না।

এনবিআর কর্তৃক উচ্চ কর আরোপ: প্রাথমিকভাবে সিমের উপর উচ্চ কর হার এমএনপি সেবাকে ব্যয়বহুল করে তুলেছিল, যা গ্রাহকদের নম্বর পরিবর্তনে নিরুৎসাহিত করেছিল। পরবর্তীতে কর মওকুফ করায় সেবার ব্যবহার কিছুটা বাড়লেও, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এই কর মওকুফ বাতিল হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং পোর্টিংয়ের সংখ্যা আবার হ্রাস পায়। বর্তমানে এমএনপি ফি বাবদ গ্রাহকদের ৪৫০ টাকা প্রদান করতে হয়, যা অনেক দেশের তুলনায় বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই এই সেবা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যায়।

এসএমএস গ্রহণের ক্ষেত্রে মাস্কিং সুবিধার অভাব: বিটিআরসির একটি নির্দেশনার কারণে এমএনপি নম্বর ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সংবেদনশীল প্ল্যাটফর্ম থেকে মাস্কিং এসএমএস গ্রহণ করতে পারেন না। এর ফলে গ্রাহকরা নানা সমস্যায় পড়েন, যা এমএনপি সেবা বাস্তবায়নে একটি বড় অন্তরায়।

সার্বিক পর্যালোচনার অভাব: পোর্টিং এবং ডিপিং এমএনপি সেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদ্যমান পোর্টিংয়ের বাধাগুলো দূর না করে ডিপিং সার্ভিসের পরিবর্তন সেবার মান উন্নয়নে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাই এমএনপি সেবার সামগ্রিক একটি পর্যালোচনা এবং যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।