ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

রাজনৈতিক পক্ষ বদলের সংস্কৃতিতে সাংবাদিকতার সম্মানহানি: গণমাধ্যম সম্মিলনে শফিক রেহমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক গণমাধ্যম সম্মিলনে প্রবীণ সম্পাদক ও লেখক শফিক রেহমান বলেছেন, রাজনৈতিক পক্ষ বদলের সংস্কৃতির কারণেই সাংবাদিকদের ‘দালাল’ অপবাদ শুনতে হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সুরক্ষা ও মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

শফিক রেহমান তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বলায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা কিছুদিন আগে এক রাজনৈতিক দলের পক্ষে ছিলেন, তারাই আবার অন্য দলের পক্ষে চলে যান। এই অদ্ভুত ‘ম্যাজিক’ সাংবাদিকতার সম্মান বাড়ায় না, বরং কমায়। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি ইতিবাচক গুণাবলী আয়ত্ত করে নিজেদের সম্মানিত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সাংবাদিকতা পেশার মানোন্নয়নের জন্য একটি ‘নিউজ পেপার স্ট্যান্ডার্ড কমিটি’ গঠন করা উচিত, যা সংবাদের মান তদারকি করবে।

নিজের কারাবাস ও নির্বাসিত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই প্রবীণ সম্পাদক আরও বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্যান্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে একজন সাংবাদিক সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারেন। শুধু সাংবাদিকতার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকলে পেশাই একসময় অভিযোগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও নাহিদ ইসলামের অঙ্গীকার সত্ত্বেও ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রণীত হয়নি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতার মান বজায় রাখার প্রশ্নে আপস করতে হয়। সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে এই আইনের সুপারিশ করা হয়েছিল এবং এর একটি খসড়াও প্রস্তুত করে দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর সমাজে ভিন্ন মত, ভিন্ন কণ্ঠস্বর ও বৈচিত্র্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেড় বছর আগে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্র পরাজিত হলেও বর্তমানে গণমাধ্যম আক্রান্ত হচ্ছে। জুলাই মাসের মূল চেতনা ও গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধ্বংস করার জন্য এই ঘটনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাংবাদিকদের মধ্যে যেকোনো বিরোধকে ক্ষতিকারক আখ্যা দিয়ে ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি মত-পথ নির্বিশেষে সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে ঐক্য ও পারস্পরিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারণ, যে সমাজে সাংবাদিকতা শক্তিশালী ও স্বাধীন, সেই সমাজ তত বেশি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন হয়। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাকরি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর ঊর্ধ্বে রয়েছে সমাজসেবার চিন্তা। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য দূর করা এবং সব ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করাই আমাদের পেশার মূলমন্ত্র।

গণমাধ্যম সম্মিলনে নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সদস্যবৃন্দ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো), জাতীয় প্রেসক্লাব, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকার বাইরের গণমাধ্যম সম্পাদক-প্রকাশকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

রাজনৈতিক পক্ষ বদলের সংস্কৃতিতে সাংবাদিকতার সম্মানহানি: গণমাধ্যম সম্মিলনে শফিক রেহমান

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এক গণমাধ্যম সম্মিলনে প্রবীণ সম্পাদক ও লেখক শফিক রেহমান বলেছেন, রাজনৈতিক পক্ষ বদলের সংস্কৃতির কারণেই সাংবাদিকদের ‘দালাল’ অপবাদ শুনতে হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সুরক্ষা ও মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

শফিক রেহমান তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বলায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা কিছুদিন আগে এক রাজনৈতিক দলের পক্ষে ছিলেন, তারাই আবার অন্য দলের পক্ষে চলে যান। এই অদ্ভুত ‘ম্যাজিক’ সাংবাদিকতার সম্মান বাড়ায় না, বরং কমায়। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি ইতিবাচক গুণাবলী আয়ত্ত করে নিজেদের সম্মানিত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সাংবাদিকতা পেশার মানোন্নয়নের জন্য একটি ‘নিউজ পেপার স্ট্যান্ডার্ড কমিটি’ গঠন করা উচিত, যা সংবাদের মান তদারকি করবে।

নিজের কারাবাস ও নির্বাসিত জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই প্রবীণ সম্পাদক আরও বলেন, সাংবাদিকতার পাশাপাশি অন্যান্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে একজন সাংবাদিক সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারেন। শুধু সাংবাদিকতার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল থাকলে পেশাই একসময় অভিযোগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক দুই তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও নাহিদ ইসলামের অঙ্গীকার সত্ত্বেও ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রণীত হয়নি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতার মান বজায় রাখার প্রশ্নে আপস করতে হয়। সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে এই আইনের সুপারিশ করা হয়েছিল এবং এর একটি খসড়াও প্রস্তুত করে দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর সমাজে ভিন্ন মত, ভিন্ন কণ্ঠস্বর ও বৈচিত্র্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেড় বছর আগে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্র পরাজিত হলেও বর্তমানে গণমাধ্যম আক্রান্ত হচ্ছে। জুলাই মাসের মূল চেতনা ও গণতান্ত্রিক আদর্শকে ধ্বংস করার জন্য এই ঘটনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাংবাদিকদের মধ্যে যেকোনো বিরোধকে ক্ষতিকারক আখ্যা দিয়ে ঐক্যের ওপর জোর দেন। তিনি মত-পথ নির্বিশেষে সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে ঐক্য ও পারস্পরিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারণ, যে সমাজে সাংবাদিকতা শক্তিশালী ও স্বাধীন, সেই সমাজ তত বেশি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন হয়। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাকরি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর ঊর্ধ্বে রয়েছে সমাজসেবার চিন্তা। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য দূর করা এবং সব ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করাই আমাদের পেশার মূলমন্ত্র।

গণমাধ্যম সম্মিলনে নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সদস্যবৃন্দ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো), জাতীয় প্রেসক্লাব, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকার বাইরের গণমাধ্যম সম্পাদক-প্রকাশকেরা উপস্থিত ছিলেন।