শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়েছে। শনিবার রাত ১০টায় শেষ হওয়া এই প্রচারণার শেষ দিনে প্রার্থীরা আবাসিক হল ও মেসগুলোতে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক প্রজ্ঞাপনের কারণে মাঝপথে প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ তুলে সময় বাড়ানোর দাবি করলেও নির্বাচন কমিশন তা নাকচ করে দিয়েছে, যা নিয়ে প্রার্থীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে কঠোর সিদ্ধান্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে শনিবার রাত ১০টায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা। প্রচারণার শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। এ কারণে প্রার্থীরা শেষবারের মতো ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল এবং আশপাশের মেসগুলোতে জোর প্রচারণা চালিয়েছেন।
নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার বন্ধ করতে হয়। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে প্রচার সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। শাকসু নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে শনিবার রাত ১০টার মধ্যেই সব ধরনের প্রচার শেষ করতে হয়েছে।
গত ১২ জানুয়ারি ইসির প্রজ্ঞাপন জারির কারণে মাঝপথে নির্বাচনি প্রচারে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। তাদের দাবি, ইসির প্রজ্ঞাপনের কারণে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে টানা তিন দিন স্বাভাবিকভাবে প্রচার চালাতে পারেননি তারা। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, দলীয় প্যানেলের সহায়তা না থাকায় তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক প্রার্থী সময় বাড়ানোর জন্য আবেদনও করেছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “আমাদের প্রচারণা উৎসবমুখর হয়েছে। ১৫ থেকে ২০টি গ্রুপে ভাগ হয়ে আমরা প্রচারণা চালিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় হলের প্রতিটি রুমে রুমে এবং মেসে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।” তিনি আরও বলেন, “শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আন্দোলনে আমাদের সময় কেটেছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তিন দিন প্রচার করতে পারিনি। তাই আমরা দুটি প্যানেল ও কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৮ জানুয়ারি রাত পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলাম। কমিশন আমাদের জানিয়েছে সময় বাড়ানো যাবে না। যদি নির্বাচন কমিশন সময় না বাড়ায় আমরা যেকোনো ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। কেননা নির্বাচন আমাদের জন্যই। একদিন সময় বাড়ালে কোনো ক্ষতি হবে না এবং কারও আপত্তি থাকারও কথা নয়।”
স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী জুনায়েদ হাসান বলেন, “সারাদিন ধরে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় মেসের দিকেই আজ প্রচারণা বেশি করতে হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইসির প্রজ্ঞাপনের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখনো সব আবাসিক হলে যেতে পারিনি। অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরেও থাকেন। একদিনে এসব এলাকা কভার করা সম্ভব নয়। বিষয়গুলো বিবেচনায় সময় বাড়ানো উচিত ছিল। আগামীকাল রাত ১০টা পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দিলে আমার মনে হয় সবার উপকার হতো।”
এ বিষয়ে শাকসুর নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রচারণার সময় কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না। অনেকে বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে, সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে সময় না বাড়ানোর। কেননা জাতীয় নির্বাচন কমিশন আমাদের শর্ত দিয়েছে কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন না করতে। আর এখন সময় বাড়ালে সেটা আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। এজন্য সময় বাড়ানো হবে না।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই শাকসু নির্বাচন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রিপোর্টারের নাম 















