ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সংস্কৃতির সংগ্রামে জয়ই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত: বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান

শনিবার একটি ঐতিহ্যবাহী দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সংস্কৃতির লড়াইয়ে জয়ী হতে না পারলে রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। তিনি বলেন, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত দেশীয় সংস্কৃতি ও বিদেশি সংস্কৃতির প্রবক্তাদের মধ্যে একটি আদর্শিক যুদ্ধে লিপ্ত। কিছু সংবাদমাধ্যম যেখানে জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছে, সেখানে অন্যরা বিজাতীয় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এই সাংস্কৃতিক সংগ্রামে জয়ী হওয়া ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে সংবাদপত্রের স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ যেন বর্তমানের মতোই বজায় থাকে।

অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং আয়োজক দৈনিকের সাথে তার সম্পাদিত পত্রিকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন। ২০১৩ সালের এক দুঃসহ ঘটনার উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, যখন তার সম্পাদিত দৈনিকের প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন আয়োজক এই ঐতিহ্যবাহী দৈনিকের ছাপাখানা থেকেই পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো। এই ‘অপরাধে’ পুলিশি অভিযানের শিকার হন তার ৭৫ বছর বয়সী মা এবং আয়োজক দৈনিকের তৎকালীন সম্পাদক। তাদের দুজনকে আদালত থেকে জামিন নিতে হয়েছিল।

তিনি জানান, পরবর্তীতে যখন তার সম্পাদিত দৈনিকটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনও আয়োজক পত্রিকাটি সবার আগে এগিয়ে এসে তাদের ছাপাখানা ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

দৃঢ়তার সাথে তিনি বলেন, কোনো চাপের মুখে তারা আপস করেননি এবং ভবিষ্যতেও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রকৃত দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আয়োজক দৈনিকের সাথে তাদের এই আদর্শিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসবে। তিনি গত এক বছর সরকারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক পরিবেশ আগামী সরকারও বজায় রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন। সংবাদপত্রকে কোনোভাবেই দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে তিনি আয়োজক দৈনিকের সম্পাদকসহ সকল সাংবাদিক ও কলাকুশলীদের অভিনন্দন জানান এবং একটি মুক্ত পরিবেশে পত্রিকাটির অগ্রযাত্রা কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মোবারক হোসাইন, আয়োজক দৈনিকের সম্পাদক আযমমীর শাহীদুল আহসান, সংশ্লিষ্ট দৈনিকের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম, আয়োজক দৈনিকের বার্তা সম্পাদক সামছুল আরেফীন, চীফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন শোয়েব প্রমুখ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

সংস্কৃতির সংগ্রামে জয়ই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত: বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান

আপডেট সময় : ০৯:১৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

শনিবার একটি ঐতিহ্যবাহী দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সংস্কৃতির লড়াইয়ে জয়ী হতে না পারলে রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। তিনি বলেন, দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত দেশীয় সংস্কৃতি ও বিদেশি সংস্কৃতির প্রবক্তাদের মধ্যে একটি আদর্শিক যুদ্ধে লিপ্ত। কিছু সংবাদমাধ্যম যেখানে জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করছে, সেখানে অন্যরা বিজাতীয় সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এই সাংস্কৃতিক সংগ্রামে জয়ী হওয়া ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে সংবাদপত্রের স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ যেন বর্তমানের মতোই বজায় থাকে।

অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং আয়োজক দৈনিকের সাথে তার সম্পাদিত পত্রিকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন। ২০১৩ সালের এক দুঃসহ ঘটনার উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, যখন তার সম্পাদিত দৈনিকের প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন আয়োজক এই ঐতিহ্যবাহী দৈনিকের ছাপাখানা থেকেই পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো। এই ‘অপরাধে’ পুলিশি অভিযানের শিকার হন তার ৭৫ বছর বয়সী মা এবং আয়োজক দৈনিকের তৎকালীন সম্পাদক। তাদের দুজনকে আদালত থেকে জামিন নিতে হয়েছিল।

তিনি জানান, পরবর্তীতে যখন তার সম্পাদিত দৈনিকটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনও আয়োজক পত্রিকাটি সবার আগে এগিয়ে এসে তাদের ছাপাখানা ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়।

দৃঢ়তার সাথে তিনি বলেন, কোনো চাপের মুখে তারা আপস করেননি এবং ভবিষ্যতেও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রকৃত দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আয়োজক দৈনিকের সাথে তাদের এই আদর্শিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসবে। তিনি গত এক বছর সরকারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক পরিবেশ আগামী সরকারও বজায় রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন। সংবাদপত্রকে কোনোভাবেই দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে তিনি আয়োজক দৈনিকের সম্পাদকসহ সকল সাংবাদিক ও কলাকুশলীদের অভিনন্দন জানান এবং একটি মুক্ত পরিবেশে পত্রিকাটির অগ্রযাত্রা কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মোবারক হোসাইন, আয়োজক দৈনিকের সম্পাদক আযমমীর শাহীদুল আহসান, সংশ্লিষ্ট দৈনিকের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম, আয়োজক দৈনিকের বার্তা সম্পাদক সামছুল আরেফীন, চীফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন শোয়েব প্রমুখ।