ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

গণভোট প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মীদের আইনগত বাধা নেই: ড. আলী রীয়াজ

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অংশগ্রহণে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ। শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। গণভোটকে ‘রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করে ড. আলী রীয়াজ বলেন, এর মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে, সে বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেওয়া হবে।

গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘একবাক্যে’ মত পাওয়া গেছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল-জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন—তারাই আমাদের দুইটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। প্রথমত, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ করা। বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, তা আজ আমাদের ও আপনার দায়িত্ব নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার আয়োজন করা।

ড. আলী রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধনের উদাহরণ টেনে ড. আলী রীয়াজ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটি কমিটি করা হয়েছিল, যেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে, তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটি থাকতে পারবে না, বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। কিন্তু একটি বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়। সেই বৈঠকটি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যেন আর ছেলেখেলায় পরিণত করা না হয়, সে বিষয়টি বন্ধ করা আবশ্যক।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই: আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?

তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস, নির্মম ও নৃশংস হতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে নিজেদের হীন স্বার্থে অপব্যবহার করেছে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের জেলাসমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সভায় গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

গণভোট প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মীদের আইনগত বাধা নেই: ড. আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অংশগ্রহণে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ। শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। গণভোটকে ‘রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করে ড. আলী রীয়াজ বলেন, এর মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে, সে বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেওয়া হবে।

গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘একবাক্যে’ মত পাওয়া গেছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল-জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন—তারাই আমাদের দুইটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। প্রথমত, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ করা। বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, তা আজ আমাদের ও আপনার দায়িত্ব নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার আয়োজন করা।

ড. আলী রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধনের উদাহরণ টেনে ড. আলী রীয়াজ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটি কমিটি করা হয়েছিল, যেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে, তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটি থাকতে পারবে না, বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। কিন্তু একটি বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়। সেই বৈঠকটি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে যেন আর ছেলেখেলায় পরিণত করা না হয়, সে বিষয়টি বন্ধ করা আবশ্যক।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই: আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?

তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস, নির্মম ও নৃশংস হতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে নিজেদের হীন স্বার্থে অপব্যবহার করেছে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের জেলাসমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সভায় গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।