ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ডিসেম্বরের শুরুতেই নামছে হাড়কাঁপানো শীত: আবহাওয়া অফিসের নতুন পূর্বাভাস

প্রকৃতিতে কার্তিকের বিদায়ঘণ্টা বাজার সাথে সাথেই হেমন্তের হিমেল পরশ জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদর দেখা দিলেও, পুরোদমে শীত কবে নাগাদ জেঁকে বসবে তা নিয়ে জনমনে ছিল কৌতূহল। অবশেষে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শীতের তীব্রতা বাড়ার সুনির্দিষ্ট সময়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দেশের তাপমাত্রায় যে ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা নভেম্বরের শেষভাগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শুরুতেই তাপমাত্রার পারদ দ্রুত নামতে শুরু করবে। মূলত হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক বা একাধিক মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ছে। দিনের বেলা রোদের তেজ থাকলেও সূর্যাস্তের পর থেকেই অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে ইতোমধ্যে শীতের পোশাকের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। তবে রাজধানীতে শীতের প্রকৃত অনুভূতি পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে কোনো লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি না হলে মেঘমুক্ত আকাশে দ্রুত তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ডিসেম্বরের শুরু থেকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে, যা তীব্র শীতের অনুভূতি তৈরি করবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে শীতের প্রকোপ অন্য এলাকার তুলনায় বেশি থাকবে।

শীতের এই আগাম বার্তায় জনজীবনে প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন লেপ-তোশক বানানোর ধুম পড়েছে, অন্যদিকে মৌসুমি রোগব্যাধি থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকছেন সাধারণ মানুষ। কৃষিবিদরা বলছেন, সময়মতো শীতের আগমন রবি শস্যের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও অতি ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কথা মাথায় রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

ডিসেম্বরের শুরুতেই নামছে হাড়কাঁপানো শীত: আবহাওয়া অফিসের নতুন পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

প্রকৃতিতে কার্তিকের বিদায়ঘণ্টা বাজার সাথে সাথেই হেমন্তের হিমেল পরশ জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদর দেখা দিলেও, পুরোদমে শীত কবে নাগাদ জেঁকে বসবে তা নিয়ে জনমনে ছিল কৌতূহল। অবশেষে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শীতের তীব্রতা বাড়ার সুনির্দিষ্ট সময়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দেশের তাপমাত্রায় যে ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা নভেম্বরের শেষভাগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শুরুতেই তাপমাত্রার পারদ দ্রুত নামতে শুরু করবে। মূলত হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক বা একাধিক মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ছে। দিনের বেলা রোদের তেজ থাকলেও সূর্যাস্তের পর থেকেই অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে ইতোমধ্যে শীতের পোশাকের ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। তবে রাজধানীতে শীতের প্রকৃত অনুভূতি পেতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে কোনো লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি না হলে মেঘমুক্ত আকাশে দ্রুত তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ডিসেম্বরের শুরু থেকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে, যা তীব্র শীতের অনুভূতি তৈরি করবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে শীতের প্রকোপ অন্য এলাকার তুলনায় বেশি থাকবে।

শীতের এই আগাম বার্তায় জনজীবনে প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন লেপ-তোশক বানানোর ধুম পড়েছে, অন্যদিকে মৌসুমি রোগব্যাধি থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকছেন সাধারণ মানুষ। কৃষিবিদরা বলছেন, সময়মতো শীতের আগমন রবি শস্যের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও অতি ঘন কুয়াশা ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কথা মাথায় রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।