প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রতি তোষণমূলক নীতি পরিহার করে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট সম্পাদক ও নাগরিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের নেতা মাহমুদুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি কোনো পক্ষ ভারতের ওপর নির্ভর করে বা দেশটিকে তোষণ করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করে, তবে এ দেশের সচেতন তরুণ প্রজন্ম আবারও বিদ্রোহ করবে।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বৈদেশিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নতুন স্বাদ পেয়েছে, তা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না। এ দেশের তরুণরা তাদের রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, তারা কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে দিল্লির সঙ্গে যে ধরনের অসম ও একপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা হয়েছিল, তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া বা বিদেশের আশীর্বাদ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে সমমর্যাদা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লব কেবল একটি সরকারের পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল সব ধরনের পরাধীনতা ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। যদি আবারও কোনো শক্তি জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে দিল্লির প্রেসক্রিপশনে রাষ্ট্র চালাতে চায়, তবে এই বিপ্লবীরা পুনরায় রাজপথে নেমে আসবে।
মাহমুদুর রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 















