ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জীবনের চড়াই-উতরাই: এক অধ্যাপকের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

আমেরিকার এক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে আসা এক শিক্ষার্থী যখন তার ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং পেশাগত হতাশা নিয়ে তার সুপারভাইজার, ড. মরিয়ম কুর্দির কাছে অকপটে নিজের দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছিলেন, তখন তিনি নিজের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় স্মরণ করেন। ড. কুর্দি, যিনি কুর্দিস্তানের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবার থেকে আমেরিকায় এসে নিজের স্থান করে নিয়েছেন, তিনি তার সেই কঠিন সময়ের গল্প শোনান যখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করাটাই ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

ড. কুর্দি বর্ণনা করেন, “সেসময় পড়াশোনা শেষ করার পর ভালো চাকরি পাওয়া ছিল এক দুষ্কর ব্যাপার। বহু চেষ্টা করেও যখন কোনো সুসংবাদ পাচ্ছিলাম না, তখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। বাবা-মায়ের ওপর সবসময় নির্ভরশীল থাকাটাও সম্ভব ছিল না।” এই হতাশার মধ্যেই তিনি একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, কিন্তু ভাইভার জন্য অপেক্ষা করার সময় তিনি বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত।

ভাইভার অপেক্ষারত কক্ষে বসে তিনি তার এক বান্ধবী, অ্যানজেলিনার দেখা পান। অ্যানজেলিনা, যিনি আর্থিক অনটনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং সেই সময়ে আফ্রিকান-আমেরিকানদের প্রতি বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অ্যানজেলিনা, যিনি ছাত্রী হিসেবে ড. কুর্দির চেয়ে কম মেধাবী ছিলেন না, কিন্তু তার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান তাকে পিছিয়ে রেখেছিল। ড. কুর্দির মনে এক ধরণের দ্বিধা কাজ করছিল; একদিকে তার নিজের চাকরির তীব্র প্রয়োজন, অন্যদিকে অ্যানজেলিনার করুণ অবস্থা।

ভাইভা শেষে বের হয়ে ড. কুর্দি যখন অ্যানজেলিনাকে খুঁজে পেলেন, তখন তাকে কান্নারত অবস্থায় পাওয়া যায়। অ্যানজেলিনা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আমার জন্য আর কোনো আশা নেই।” ড. কুর্দিও একই রকম আশাহীনতা প্রকাশ করেন, কারণ তিনি মনে করছিলেন যে তিনি প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

আশ্চর্যজনকভাবে, চাকরিটি শেষ পর্যন্ত অ্যানজেলিনাই পেয়ে যান। ড. কুর্দি এই ঘটনায় অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং তার কথায় অলমাইটির দয়া প্রকাশ পায়। এই ঘটনার কিছুদিন পরেই তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হিসেবে নিযুক্ত হন, যা তার জীবনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ড. কুর্দির এই গল্প পিএইচডি শিক্ষার্থীর মনে আশা জাগায় যে, জীবনের প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, যদি ধৈর্য ও অধ্যবসায় বজায় রাখা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

ফুলবাড়ীয়ায় অবৈধ জ্বালানি তেলসহ আটক ৩, লরি জব্দ

জীবনের চড়াই-উতরাই: এক অধ্যাপকের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আমেরিকার এক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে আসা এক শিক্ষার্থী যখন তার ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন এবং পেশাগত হতাশা নিয়ে তার সুপারভাইজার, ড. মরিয়ম কুর্দির কাছে অকপটে নিজের দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছিলেন, তখন তিনি নিজের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় স্মরণ করেন। ড. কুর্দি, যিনি কুর্দিস্তানের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবার থেকে আমেরিকায় এসে নিজের স্থান করে নিয়েছেন, তিনি তার সেই কঠিন সময়ের গল্প শোনান যখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করাটাই ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

ড. কুর্দি বর্ণনা করেন, “সেসময় পড়াশোনা শেষ করার পর ভালো চাকরি পাওয়া ছিল এক দুষ্কর ব্যাপার। বহু চেষ্টা করেও যখন কোনো সুসংবাদ পাচ্ছিলাম না, তখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। বাবা-মায়ের ওপর সবসময় নির্ভরশীল থাকাটাও সম্ভব ছিল না।” এই হতাশার মধ্যেই তিনি একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, কিন্তু ভাইভার জন্য অপেক্ষা করার সময় তিনি বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত।

ভাইভার অপেক্ষারত কক্ষে বসে তিনি তার এক বান্ধবী, অ্যানজেলিনার দেখা পান। অ্যানজেলিনা, যিনি আর্থিক অনটনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং সেই সময়ে আফ্রিকান-আমেরিকানদের প্রতি বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অ্যানজেলিনা, যিনি ছাত্রী হিসেবে ড. কুর্দির চেয়ে কম মেধাবী ছিলেন না, কিন্তু তার আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান তাকে পিছিয়ে রেখেছিল। ড. কুর্দির মনে এক ধরণের দ্বিধা কাজ করছিল; একদিকে তার নিজের চাকরির তীব্র প্রয়োজন, অন্যদিকে অ্যানজেলিনার করুণ অবস্থা।

ভাইভা শেষে বের হয়ে ড. কুর্দি যখন অ্যানজেলিনাকে খুঁজে পেলেন, তখন তাকে কান্নারত অবস্থায় পাওয়া যায়। অ্যানজেলিনা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আমার জন্য আর কোনো আশা নেই।” ড. কুর্দিও একই রকম আশাহীনতা প্রকাশ করেন, কারণ তিনি মনে করছিলেন যে তিনি প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

আশ্চর্যজনকভাবে, চাকরিটি শেষ পর্যন্ত অ্যানজেলিনাই পেয়ে যান। ড. কুর্দি এই ঘটনায় অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং তার কথায় অলমাইটির দয়া প্রকাশ পায়। এই ঘটনার কিছুদিন পরেই তিনি নিজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হিসেবে নিযুক্ত হন, যা তার জীবনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ড. কুর্দির এই গল্প পিএইচডি শিক্ষার্থীর মনে আশা জাগায় যে, জীবনের প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব, যদি ধৈর্য ও অধ্যবসায় বজায় রাখা যায়।