২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম ও নজিরবিহীন ভোট জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই নির্বাচনে জনমত উপেক্ষা করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের অবৈধ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের প্রভাব বিস্তারে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তির যে অভিযোগ রয়েছে, তার নেপথ্যে ছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রটি নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে বিভিন্ন স্তরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করে। বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশকে এই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রমতে, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে মূলত ভোট কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মিশনে এই অর্থ ব্যয় করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভোটের দিন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত রাখতেও মোটা অংকের টাকা খরচ করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালের সেই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। ভোটাধিকার হরণ করতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার এবং তার বিনিময়ে হাজার হাজার কোটি টাকার এই লেনদেন রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই আর্থিক অনিয়মের ফলে কেবল একটি একপাক্ষিক নির্বাচনই সম্পন্ন হয়নি, বরং এর মাধ্যমে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিশাল অংকের অর্থের উৎস এবং কাদের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হয়েছিল, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। জনগনের ভোটাধিকার নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
রিপোর্টারের নাম 















