রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে দেশবাসীকে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ভোটাররা যে দলকেই নির্বাচন করুক না কেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি যেন তাদের পূর্ণ সমর্থন থাকে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। ইইউর প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস আইজাবস।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও নির্বাচনি প্রস্তুতির বিষয়ে জামায়াত আমির জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তিনি বলেন, “আমরা সকল পক্ষের সঙ্গে বসে একটি সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে দ্রুতই তা গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।”
ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান জানান, বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০০ প্রতিনিধি দেশের বিভিন্ন জেলা ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশ কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনের পর একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তিনি তিনটি প্রধান শর্ত তুলে ধরেন। এগুলো হলো— একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থেকে বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাসী। এছাড়া দেশের যুবসমাজ ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের উন্নয়নে দলটির বিশেষ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবে। তবে কোনো ধরনের বিচ্যুতি দেখা দিলে বা নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হলে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। ডা. শফিকুর রহমান আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, দেশের মানুষ একটি নিরাপদ, সন্ত্রাসমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























