ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা কাল-পরশুর মধ্যেই: ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াত আমির

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুতই এই বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বের দীর্ঘ আলোচনা হয়।

বৈঠক পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্রদের প্রস্তুতি কতটুকু এবং আসন সমঝোতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিনিধি দল জানতে চেয়েছে। জবাবে জামায়াত আমির তাদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই আসন বণ্টনের একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হবে।

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের পর্যবেক্ষণ জানতে চায় ইইউ মিশন। এ প্রসঙ্গে আমির বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। আমরা প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয়ে অবহিত করতে চাই। সরকার ও কমিশন যদি সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তবে তা ইতিবাচক। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আমরা দেশবাসীকে সব জানাবো।”

বৈঠকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়তে চাই না, বরং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।”

দলের জনসমর্থন ও সামাজিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ জামায়াতের ওপর আস্থা রাখছে, যার প্রতিফলন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে। এছাড়া নারী ভোটারদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে জামায়াত অত্যন্ত সচেতন। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের বাধা প্রদান ও হেনস্তার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশের স্বার্থে তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি আরও প্রস্তাব করেন, নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা উচিত। তবে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের শর্ত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। অন্যথায় জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রশাসনকে আইনানুগভাবে সঠিক পথে চলতে বাধ্য করা হবে। ইইউ প্রতিনিধি দল এবার বাংলাদেশে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে, যারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ, দেওয়ান আলমগীর এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নির্বাচনের প্রজ্ঞাপনে শাবিপ্রবি শাকসু নির্বাচন স্থগিতের শঙ্কা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা কাল-পরশুর মধ্যেই: ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৫:২০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুতই এই বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটির সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বের দীর্ঘ আলোচনা হয়।

বৈঠক পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্রদের প্রস্তুতি কতটুকু এবং আসন সমঝোতা কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিনিধি দল জানতে চেয়েছে। জবাবে জামায়াত আমির তাদের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই আসন বণ্টনের একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হবে।

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতের পর্যবেক্ষণ জানতে চায় ইইউ মিশন। এ প্রসঙ্গে আমির বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। আমরা প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয়ে অবহিত করতে চাই। সরকার ও কমিশন যদি সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে, তবে তা ইতিবাচক। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আমরা দেশবাসীকে সব জানাবো।”

বৈঠকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও আলোচনা হয়। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়তে চাই না, বরং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।”

দলের জনসমর্থন ও সামাজিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ জামায়াতের ওপর আস্থা রাখছে, যার প্রতিফলন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে। এছাড়া নারী ভোটারদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে জামায়াত অত্যন্ত সচেতন। তবে নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের বাধা প্রদান ও হেনস্তার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশের স্বার্থে তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি আরও প্রস্তাব করেন, নির্বাচনের পর দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা উচিত। তবে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের শর্ত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। অন্যথায় জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রশাসনকে আইনানুগভাবে সঠিক পথে চলতে বাধ্য করা হবে। ইইউ প্রতিনিধি দল এবার বাংলাদেশে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে, যারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ, দেওয়ান আলমগীর এবং আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।