মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:৫৯ অপরাহ্ন | ৬ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ২১শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

তিস্তার চরে ভুট্টার বীজ বুনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নারীরা

  • হালনাগাদ সময় : ০১:০৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

তিস্তার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর। কোথাও সদ্য প্রস্তুত করা জমি, কোথাও চলছে আগাম ভুট্টার বীজ রোপণ। পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নেমেছেন নারীরাও। কারও হাতে বীজ, কেউ ব্যস্ত সারি ধরে বীজ রোপণে। দিনভর পরিশ্রমের বিনিময়ে মিলছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি। এই আয়ই অনেক নারীর কাছে সংসারে স্বস্তি ফেরানো ও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার বড় অবলম্বন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পারুলিয়া তিস্তার চরাঞ্চলে দেখা যায়, চলছে আগাম ভুট্টা চাষের ব্যস্ততা। আর এই কর্মব্যস্ততার মধ্যেই কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন চরাঞ্চলের নারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে ভুট্টার বীজ রোপণে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকেরা। কেউ বীজ বুনছেন, কেউ সারি ধরে এগিয়ে নিচ্ছেন রোপণের কাজ। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি পাঁচ-ছয়জনের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করছেন নারীরাও। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে তাঁদের কর্মব্যস্ততা। তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন কৃষি। মৌসুমভিত্তিক ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলে এখানকার অসংখ্য পরিবারের জীবন-জীবিকা। আগাম ভুট্টা চাষ শুরু হওয়ায় কৃষিজমিতে কর্মচাঞ্চল্য ফেরার পাশাপাশি নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য কৃষিশ্রম হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

এমনই এক নারী শ্রমিক পারুল বেগম। তিনি উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুট্টার বীজ রোপণ করে প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরি পান তিনি। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারের খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়ও বহন করছেন।

পারুল বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন ভুট্টার বীজ রোপণ করে ৪০০ টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছি। নিজের আয় থাকায় সংসারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে।’

একই এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ‘সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। শুধু স্বামীর আয়ে সব খরচ চালানো কঠিন। তাই নিজেরাও মাঠে কাজ করতে নেমেছি। এতে সংসারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমছে।’

হাতীবান্ধা উপজেলার সহর উদ্দিন সরকার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষিকা গুলনাহার বেগম বলেন, ‘নারীরা এখন আর ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নেই। পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিস্তার চরাঞ্চলের নারীরা কৃষিকাজ করে সংসারের হাল ধরছেন, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন। নারীদের এই পরিশ্রম, সাহস ও আত্মনির্ভরশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়। যথাযথ সুযোগ ও সম্মান পেলে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।’

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন মিয়া বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন চরে আগাম ভুট্টা চাষ শুরু হয়েছে। এতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও কৃষিকাজে অংশ নিচ্ছেন।’

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

শর্টকাটে অর্থ উপার্জনের চিন্তা করলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: আইনমন্ত্রী

06 November 2026

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাইমুড়ীতে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

তিস্তার চরে ভুট্টার বীজ বুনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন নারীরা

হালনাগাদ সময় : ০১:০৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

তিস্তার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর। কোথাও সদ্য প্রস্তুত করা জমি, কোথাও চলছে আগাম ভুট্টার বীজ রোপণ। পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নেমেছেন নারীরাও। কারও হাতে বীজ, কেউ ব্যস্ত সারি ধরে বীজ রোপণে। দিনভর পরিশ্রমের বিনিময়ে মিলছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি। এই আয়ই অনেক নারীর কাছে সংসারে স্বস্তি ফেরানো ও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার বড় অবলম্বন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পারুলিয়া তিস্তার চরাঞ্চলে দেখা যায়, চলছে আগাম ভুট্টা চাষের ব্যস্ততা। আর এই কর্মব্যস্ততার মধ্যেই কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন চরাঞ্চলের নারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে ভুট্টার বীজ রোপণে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকেরা। কেউ বীজ বুনছেন, কেউ সারি ধরে এগিয়ে নিচ্ছেন রোপণের কাজ। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি পাঁচ-ছয়জনের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করছেন নারীরাও। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে তাঁদের কর্মব্যস্ততা। তিস্তার চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন কৃষি। মৌসুমভিত্তিক ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলে এখানকার অসংখ্য পরিবারের জীবন-জীবিকা। আগাম ভুট্টা চাষ শুরু হওয়ায় কৃষিজমিতে কর্মচাঞ্চল্য ফেরার পাশাপাশি নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের জন্য কৃষিশ্রম হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

এমনই এক নারী শ্রমিক পারুল বেগম। তিনি উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ভুট্টার বীজ রোপণ করে প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরি পান তিনি। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারের খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়ও বহন করছেন।

পারুল বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন ভুট্টার বীজ রোপণ করে ৪০০ টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারছি। নিজের আয় থাকায় সংসারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে।’

একই এলাকার রহিমা বেগম বলেন, ‘সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। শুধু স্বামীর আয়ে সব খরচ চালানো কঠিন। তাই নিজেরাও মাঠে কাজ করতে নেমেছি। এতে সংসারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমছে।’

হাতীবান্ধা উপজেলার সহর উদ্দিন সরকার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষিকা গুলনাহার বেগম বলেন, ‘নারীরা এখন আর ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নেই। পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিস্তার চরাঞ্চলের নারীরা কৃষিকাজ করে সংসারের হাল ধরছেন, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন। নারীদের এই পরিশ্রম, সাহস ও আত্মনির্ভরশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়। যথাযথ সুযোগ ও সম্মান পেলে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে পরিবার ও সমাজকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।’

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন মিয়া বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন চরে আগাম ভুট্টা চাষ শুরু হয়েছে। এতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও কৃষিকাজে অংশ নিচ্ছেন।’

Share this news as a Photo Card