অনুমোদনহীন পরিশোধনাগারের (রিফাইনারি) বিপরীতে ভারী অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (হেভি ক্রুড) আমদানির আবেদন জানিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। বৈধ অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে এ ধরনের প্রস্তাব জ্বালানি খাতে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান বরাবর গত ২৭ অক্টোবর দেওয়া এক চিঠিতে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল ৪ লাখ টন লাইট ক্রুড এবং ৮ লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানির অনুমোদন চায়। তবে নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাত্র তিন মাস আগে রিফাইনারি সংক্রান্ত প্রাথমিক আবেদনে লাইট ক্রুড পরিশোধনের কথা বলা হলেও নতুন আমদানির আবেদনপত্রে ৮ লাখ টন হেভি ক্রুডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যে চাতুরতার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তেল শোধন করে বাজারে বিক্রির একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়া প্ল্যান্ট গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিয়ম-নীতির বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং সক্ষমতা ও অনুমোদন সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিসি যখন নিজস্ব পরিশোধনাগার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগ সন্দেহজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

























