ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে নারী ও শিশুদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও রুপার গয়না লুট করে নিয়ে গেছে সশস্ত্র ডাকাতদল। এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের পাগলা থানাধীন বারইহাটি গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মকবুল হোসেনের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাগলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মকবুল হোসেনের তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ফেরদৌস আহমেদ সাভারে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে কর্মরত, মেজো ছেলে সাইফুল ইসলাম কাতার প্রবাসী এবং ছোট ছেলে আপেল মাহমুদ স্থানীয় টাংগাব বাজারের ব্যবসায়ী। ঘটনার সময় গৃহকর্তা মকবুল হোসেনসহ পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্য বাড়িতে ছিলেন না।
মকবুল হোসেনের পুত্রবধূ ও বারইহাটি আঙ্গারি ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষিকা রোকেয়া খাতুন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি ও তাঁর শাশুড়ি মাগরিবের নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় তিনজনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল ঘরে ঢুকে রামদা ও ডেগারের মুখে তাঁদের এবং শিশুদের জিম্মি করে। চিৎকার দিলে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ ৭ হাজার টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪৩ ভরি রুপার গয়না লুট করে পালিয়ে যায়।
এদিকে একই দিন দুপুরে বারইহাটি বাজারের বিকাশ ব্যবসায়ী ওয়ালিউল্লাহ মিয়ার দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। দোকান বন্ধ করে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার সুযোগে টিনের বেড়া কেটে ভেতরে ঢুকে ক্যাশবাক্স থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।


























