সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক বাংলাদেশি চালকসহ তিনজনকে অপহরণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই চীনা নাগরিককে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’-এর ভিত্তিতে ব্যাংককের চিদলম ও সিলম এলাকার দুটি বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম থেকে থাই ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চেন (৩০) এবং ইয়াং (২৮)। থাই পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই অপরাধী চক্রের সদস্যরা থাইল্যান্ডকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল। গ্রেপ্তারের সময় চেনের থাইল্যান্ডে অবস্থানের ভিসার মেয়াদ শেষ ছিল এবং ইয়াংয়ের ভিসার অনুমতি আগেই বাতিল করা হয়েছিল।
দুবাই পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের জুন মাসে। দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল ভিলা থেকে এক তুর্কি ব্যবসায়ী, তার চীনা বান্ধবী এবং তাদের বাংলাদেশি গাড়িচালককে সাতজন অপহরণকারী মিলে অপহরণ করে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দুবাইয়ের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সুইহান মরুভূমি এলাকা থেকে অপহৃত এই তিনজনের পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপহরণের পর তাদের আটকে রেখে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।
থাইল্যান্ডের পুলিশ প্রধান এবং ইমিগ্রেশন ব্যুরো কমিশনারের নির্দেশে এই হাই-প্রোফাইল অভিযানটি পরিচালিত হয়। থাই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আটককৃতদের থাইল্যান্ডের অভিবাসন আইন অনুযায়ী নিজেদের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং দুবাইয়ে সংগঠিত এই ট্রিপল মার্ডার বা ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডের মামলার মুখোমুখি করার জন্য তাদের দুবাইয়ে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে ইন্টারপোল এবং বিভিন্ন দেশের পুলিশের এমন যৌথ তৎপরতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশি চালকের এমন নির্মম মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে নিহতের পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মাঝে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে দুবাই প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।


























