মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:০৮ অপরাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ট্রাম্পের পরাজয়ে ইরানিদের উল্লাস ও উপহাস

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দলটির এমন পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূতাবাসের সামনে বার্ষিক আমেরিকাবিরোধী সমাবেশে জড়ো হয়ে উল্লাস করেছেন হাজার হাজার ইরানি।

রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত সমাবেশে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। বিক্ষোভকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা নাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন।

একটি ব্যানারে ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা রক্তমাখা বুলডগ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। অন্য ব্যানারগুলোতে ইরানের নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান তিনি।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ৪০ বছর বয়সী মাহমুদখানি বলেন, আমেরিকা বহু বছর ধরে ইরানের ওপর অত্যাচার চালালেও দেশটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা খুশি নন। তবে এখন আর শুধু ইরানিদের একা এই কষ্ট সইতে হচ্ছে না—এতে কিছুটা তৃপ্তি পাচ্ছেন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কারণে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

তেহরানের ৬২ বছর বয়সী কাপড় প্রস্তুতকারক মজিদ হেইদারি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াই মার্কিন ভোটারদের সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থানের জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো হাতিয়ার ব্যবহার করা ছাড়া তাদের বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনে সাধারণ ইরানিদের জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন হেইদারি। ৪২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, ইরানের জন্য তাতে কোনো পার্থক্য নেই। গত ৫০ বছর ধরে ইরানিদের প্রতি মার্কিন সরকারের শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব একই রয়ে গেছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে তেহরানের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন জনগণের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণ স্পষ্টভাবে ‘যুদ্ধকে না’ বলেছে। ইরান তাদের এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।

তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বরং নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালানো হয়। সে সময় ক্ষুব্ধ ইরানিরা সেখানে অবস্থান নেন এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসে সরকারের গড়িমসি নিয়ে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

04 November 2026

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদারে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ট্রাম্পের পরাজয়ে ইরানিদের উল্লাস ও উপহাস

হালনাগাদ সময় : ০৭:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দলটির এমন পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূতাবাসের সামনে বার্ষিক আমেরিকাবিরোধী সমাবেশে জড়ো হয়ে উল্লাস করেছেন হাজার হাজার ইরানি।

রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত সমাবেশে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। বিক্ষোভকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা নাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন।

একটি ব্যানারে ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা রক্তমাখা বুলডগ হিসেবে চিত্রিত করা হয়। অন্য ব্যানারগুলোতে ইরানের নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান তিনি।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ৪০ বছর বয়সী মাহমুদখানি বলেন, আমেরিকা বহু বছর ধরে ইরানের ওপর অত্যাচার চালালেও দেশটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা খুশি নন। তবে এখন আর শুধু ইরানিদের একা এই কষ্ট সইতে হচ্ছে না—এতে কিছুটা তৃপ্তি পাচ্ছেন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কারণে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের প্রধান বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

তেহরানের ৬২ বছর বয়সী কাপড় প্রস্তুতকারক মজিদ হেইদারি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াই মার্কিন ভোটারদের সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অবস্থানের জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের মতো হাতিয়ার ব্যবহার করা ছাড়া তাদের বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনে সাধারণ ইরানিদের জীবনে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন হেইদারি। ৪২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান—যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, ইরানের জন্য তাতে কোনো পার্থক্য নেই। গত ৫০ বছর ধরে ইরানিদের প্রতি মার্কিন সরকারের শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব একই রয়ে গেছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে তেহরানের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন জনগণের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণ স্পষ্টভাবে ‘যুদ্ধকে না’ বলেছে। ইরান তাদের এই বার্তাকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।

তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বরং নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা রয়েছে।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালানো হয়। সে সময় ক্ষুব্ধ ইরানিরা সেখানে অবস্থান নেন এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Share this news as a Photo Card