মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:০২ অপরাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

আমার নাম ব্যালটে ছিল না বলেই রিপাবলিকানরা হেরেছে: ট্রাম্প

  • হালনাগাদ সময় : ০২:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, ব্যালটে তার নিজের নাম না থাকার কারণেই মূলত রিপাবলিক পার্টি নির্বাচনে পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যখন মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে বসে নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এই ফলাফল পুরোপুরি মেনে নিতে প্রস্তুত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করব এবং তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমরা ইতিবাচকভাবেই অপেক্ষা করছি। সম্ভবত আমরা কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াইয়ে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই ধরনের মন্তব্য সামনে এলো। ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রযাত্রা ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সামগ্রিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। সেইসঙ্গে নিজের মেয়াদের বাকি সময়ে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলোকে যথেষ্ট জটিল করে তুলতে পারে।

রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে ট্রাম্প ব্যালটে নিজের নাম না থাকাকেই মূলত দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন।

সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহাম ও টেক্সাসের রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মতো প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি। তারা দুজনেই এবারের সিনেট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আমি ফলাফলগুলো সরাসরি দেখছি। দেখলাম ডার্লিন হেরে গেছেন। ভাবা যায়! আচ্ছা, লিন্ডসে যদি নির্বাচনে দাঁড়াতেন, তবে তিনি কেমন করতেন বলে আপনার মনে হয়?’ গত জুলাই মাসে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের কথা স্মরণ করে তিনি এই প্রশ্ন রাখেন।

ট্রাম্প আরও জানান, তার দৃঢ় বিশ্বাস লিন্ডসে গ্রাহাম এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে খুব সম্ভব জয়ী হতে পারতেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশ নিষ্প্রভ শোনাচ্ছিল। দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের খবরগুলো তখন তিনি কেবলই আত্মস্থ করছিলেন।

তবে রিপাবলিকানদের এই পরাজয় সত্ত্বেও নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের অর্জন নিয়ে তার বিন্দুমাত্র কোনো অনুশোচনা নেই বলে জোর দিয়ে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে এই সময়টিকে আমি সবচেয়ে সফল দুই বছর বলে মনে করি।’

গত এক বছর ধরে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প। এমনকি মঙ্গলবারও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক বার্তা পোস্ট করে অ-নাগরিক ভোটারদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেয়, যদিও বাস্তবে এমন ভোটার খুঁজে পেতে প্রশাসনকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৮৬৬

04 November 2026

চুয়াডাঙ্গায় রেলপথ অবরোধ, ঢাকার সঙ্গে খুলনার সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

আমার নাম ব্যালটে ছিল না বলেই রিপাবলিকানরা হেরেছে: ট্রাম্প

হালনাগাদ সময় : ০২:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, ব্যালটে তার নিজের নাম না থাকার কারণেই মূলত রিপাবলিক পার্টি নির্বাচনে পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যখন মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে বসে নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এই ফলাফল পুরোপুরি মেনে নিতে প্রস্তুত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করব এবং তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমরা ইতিবাচকভাবেই অপেক্ষা করছি। সম্ভবত আমরা কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াইয়ে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই ধরনের মন্তব্য সামনে এলো। ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রযাত্রা ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সামগ্রিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। সেইসঙ্গে নিজের মেয়াদের বাকি সময়ে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলোকে যথেষ্ট জটিল করে তুলতে পারে।

রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে ট্রাম্প ব্যালটে নিজের নাম না থাকাকেই মূলত দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন।

সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহাম ও টেক্সাসের রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মতো প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানান তিনি। তারা দুজনেই এবারের সিনেট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।

ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আমি ফলাফলগুলো সরাসরি দেখছি। দেখলাম ডার্লিন হেরে গেছেন। ভাবা যায়! আচ্ছা, লিন্ডসে যদি নির্বাচনে দাঁড়াতেন, তবে তিনি কেমন করতেন বলে আপনার মনে হয়?’ গত জুলাই মাসে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের কথা স্মরণ করে তিনি এই প্রশ্ন রাখেন।

ট্রাম্প আরও জানান, তার দৃঢ় বিশ্বাস লিন্ডসে গ্রাহাম এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে খুব সম্ভব জয়ী হতে পারতেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বেশ নিষ্প্রভ শোনাচ্ছিল। দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের খবরগুলো তখন তিনি কেবলই আত্মস্থ করছিলেন।

তবে রিপাবলিকানদের এই পরাজয় সত্ত্বেও নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের অর্জন নিয়ে তার বিন্দুমাত্র কোনো অনুশোচনা নেই বলে জোর দিয়ে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিহাসে এই সময়টিকে আমি সবচেয়ে সফল দুই বছর বলে মনে করি।’

গত এক বছর ধরে নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প। এমনকি মঙ্গলবারও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক বার্তা পোস্ট করে অ-নাগরিক ভোটারদের গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দেয়, যদিও বাস্তবে এমন ভোটার খুঁজে পেতে প্রশাসনকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।

Share this news as a Photo Card