মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:৪৭ অপরাহ্ন | ৩রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস ফেনীর নিম্ন ও মধ্যবিত্তের, কমেছে বেচাকেনাও

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে অনেকটা হিসাব কষতে হয় সাধারণ মানুষকে। এক কেজি কিনতে গিয়ে আধা কেজি, আবার কোনো কোনো পণ্য তালিকা থেকেই বাদ দিতে হচ্ছে। মাছ-মাংসের বাজারে গিয়ে সাধ থাকলেও সাধ্যের সঙ্গে মিলছে না। সংসারের মাসিক আয় খুব একটা না বাড়লেও চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে তীব্র হিমশিম খাচ্ছেন ফেনীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

অন্যদিকে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। এতে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কমে গেছে। ফেনী বড় বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের দৈনিক বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেউ কেউ আগের অর্ধেক বিক্রিও করতে পারছেন না। দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

ফেনীর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, মাছ, মুরগি, ডাল, তেল, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও সামগ্রিক ব্যয়ের চাপ কমেনি। বিশেষ করে গত তিন মাসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের বস্তাপ্রতি দাম ৭০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক মাসে তেলাপিয়া মাছের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। ছোলার দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। আদা ও রসুনের দামও একইভাবে চড়া রয়েছে।

শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মারুফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বেতন বেড়েছে। কিন্তু চাল, কাঁচা তরকারি, মাছ, মাংস ও ডিমের দামের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে কোনোভাবেই আর কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। যে বেতন আমরা পাই, সে তুলনায় বর্তমান বাজারদর অনেক বেশি।

গৃহবধূ জাকিয়া বেগম বলেন, জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় উপকরণের পাশাপাশি শিশুখাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে চিকিৎসকের ফি ছিল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা হয়েছে। বাধ্য হয়ে সংসারে মাছ-মাংস কেনা কমিয়ে দিয়েছি। ছেলেমেয়েদের চাহিদা অনুপাতে অনেক কিছু নিতে হয়, তবে আমাদের আয় সে অর্থে বাড়েনি। যার কারণে জীবনযাপনের ব্যয় অনেকটাই সংকোচন করে চলতে হচ্ছে।

১০ বছর ধরে কর্মরত এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেন, নিজের ও স্বামীর যৌথ আয়েও বর্তমান বাজারে পরিবারের শিক্ষা, যাতায়াত ও ভোগ্যপণ্যের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই অনেক কিছু কেনা বন্ধ করেছি। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্গিস আক্তার বলেন, বাজারে গেলে বুঝি টাকা কত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। বাসা থেকে হিসাব করে আসি, কিন্তু বাজারে এসে দেখি সেই টাকায় সবকিছু কেনা যাচ্ছে না। কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে কিছু পণ্য না কিনেই ফিরে যেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সংসারের খরচ তো পুরোপুরি কমানো যায় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে অন্য খরচ কমিয়ে চলতে হয়। কিন্তু সবমিলিয়ে জীবন চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে নববিতে নারীদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার বিশেষ ব্যবস্থা

03 November 2026

ধানমন্ডিতে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস ফেনীর নিম্ন ও মধ্যবিত্তের, কমেছে বেচাকেনাও

হালনাগাদ সময় : ১০:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে অনেকটা হিসাব কষতে হয় সাধারণ মানুষকে। এক কেজি কিনতে গিয়ে আধা কেজি, আবার কোনো কোনো পণ্য তালিকা থেকেই বাদ দিতে হচ্ছে। মাছ-মাংসের বাজারে গিয়ে সাধ থাকলেও সাধ্যের সঙ্গে মিলছে না। সংসারের মাসিক আয় খুব একটা না বাড়লেও চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে তীব্র হিমশিম খাচ্ছেন ফেনীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

অন্যদিকে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। এতে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কমে গেছে। ফেনী বড় বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের দৈনিক বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেউ কেউ আগের অর্ধেক বিক্রিও করতে পারছেন না। দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

ফেনীর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, মাছ, মুরগি, ডাল, তেল, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও সামগ্রিক ব্যয়ের চাপ কমেনি। বিশেষ করে গত তিন মাসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের বস্তাপ্রতি দাম ৭০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক মাসে তেলাপিয়া মাছের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। ছোলার দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। আদা ও রসুনের দামও একইভাবে চড়া রয়েছে।

শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মারুফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বেতন বেড়েছে। কিন্তু চাল, কাঁচা তরকারি, মাছ, মাংস ও ডিমের দামের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে কোনোভাবেই আর কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। যে বেতন আমরা পাই, সে তুলনায় বর্তমান বাজারদর অনেক বেশি।

গৃহবধূ জাকিয়া বেগম বলেন, জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় উপকরণের পাশাপাশি শিশুখাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে চিকিৎসকের ফি ছিল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা হয়েছে। বাধ্য হয়ে সংসারে মাছ-মাংস কেনা কমিয়ে দিয়েছি। ছেলেমেয়েদের চাহিদা অনুপাতে অনেক কিছু নিতে হয়, তবে আমাদের আয় সে অর্থে বাড়েনি। যার কারণে জীবনযাপনের ব্যয় অনেকটাই সংকোচন করে চলতে হচ্ছে।

১০ বছর ধরে কর্মরত এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেন, নিজের ও স্বামীর যৌথ আয়েও বর্তমান বাজারে পরিবারের শিক্ষা, যাতায়াত ও ভোগ্যপণ্যের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই অনেক কিছু কেনা বন্ধ করেছি। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্গিস আক্তার বলেন, বাজারে গেলে বুঝি টাকা কত দ্রুত শেষ হয়ে যায়। বাসা থেকে হিসাব করে আসি, কিন্তু বাজারে এসে দেখি সেই টাকায় সবকিছু কেনা যাচ্ছে না। কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে কিছু পণ্য না কিনেই ফিরে যেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সংসারের খরচ তো পুরোপুরি কমানো যায় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে অন্য খরচ কমিয়ে চলতে হয়। কিন্তু সবমিলিয়ে জীবন চালানো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

Share this news as a Photo Card