মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:০৩ পূর্বাহ্ন | ৪ঠা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে

  • হালনাগাদ সময় : ০১:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ইরান ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলার খবরের পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে এই পতন পরিলক্ষিত হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ১১১ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উত্থানের পর বাজারে কিছুটা সংশোধন দেখা যাচ্ছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় কোনো সামরিক সংঘাত না ঘটায় আপাতত জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। এতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আলোচনাকে ‘চলমান ও অগ্রগতিশীল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, তেহরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং জাহাজ চলাচলের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, তিনটি জাহাজ-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি জানিয়েছে, অক্টোবরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের তুলনার এই রফতানির চিত্র ইতিবাচক হলেও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথিদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ওপেক ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস ডিসেম্বরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রোববারে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছরের আগে উৎপাদন নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদননীতি—এই তিনটি প্রধান বিষয়ই আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে নববিতে নারীদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার বিশেষ ব্যবস্থা

03 November 2026

ধানমন্ডিতে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে

হালনাগাদ সময় : ০১:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। ইরান ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চলার খবরের পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে এই পতন পরিলক্ষিত হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ১১১ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় ধরনের উত্থানের পর বাজারে কিছুটা সংশোধন দেখা যাচ্ছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় কোনো সামরিক সংঘাত না ঘটায় আপাতত জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। এতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আলোচনাকে ‘চলমান ও অগ্রগতিশীল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, তেহরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং জাহাজ চলাচলের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, তিনটি জাহাজ-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি জানিয়েছে, অক্টোবরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরের তুলনার এই রফতানির চিত্র ইতিবাচক হলেও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথিদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ওপেক ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস ডিসেম্বরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রোববারে গৃহীত এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছরের আগে উৎপাদন নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদননীতি—এই তিনটি প্রধান বিষয়ই আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Share this news as a Photo Card